এক দিনে দুই ম্যাচ খেললেন, নজরকাড়া পারফরম্যান্সও করেছেন অসাধারণ। ঠিক যেন রোবটের মতো করে দেখালেন সবকিছু! সকালে কলম্বোয় সেঞ্চুরি করে ফ্লাইটে আবার দুবাইয়ে গিয়ে সন্ধ্যায় আইএল টি-টোয়েন্টি খেলা বেশ কঠিনই হওয়ার কথা। শ্রীলঙ্কান অলরাউন্ডার দাসুন শানাকা সে কাজটি করেছেন বেশ অনায়াসে।
গত ২৮ জানুয়ারি দুবাই ক্যাপিটালসের হয়ে দুবাইয়ে আইএল টি-টোয়েন্টি খেলেন শানাকা। এর দুই দিন পরই কলম্বোর পি সারা ওভালে মেজর লিগ টুর্নামেন্টে শুরু হয় প্রথম শ্রেণির ম্যাচটি। সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাবের হয়ে খেলতে দেশে ফেরেন তিনি। মুরস স্পোর্টস ক্লাবের বিপক্ষে ৩৯ রান নিয়ে গতকাল তৃতীয় দিনের ব্যাটিং শুরু করেন শানাকা। ৭৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়েছিল দল।
সেখান থেকে সাত নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে দলের ঢাল হয়েছেন শানাকা। ৮ ছক্কা ও ১০ চারে ৮৭ বলে খেলেন ঝোড়ো ১২৩ রানের ইনিংস। ষষ্ঠ উইকেটে অধিনায়ক চরিত আসালাঙ্কার সঙ্গে গড়েন ১৪৮ রানের দারুণ এক জুটি। ফলোঅন এড়ায় দল। সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাবের প্রথম ইনিংস থামে ২৭৫ রানে। তার আগে মুরস স্পোর্টস ক্লাব ৯ উইকেটে ৪১২ রান করে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছিল।
১৩৭ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ১৭১ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংসও ঘোষণা করে মুরস। সিংহলিজের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩০৯ রান। ১ উইকেটে ১০৫ রান করার পর ম্যাচ ড্র হয়ে যায়। দুই দলের দ্বিতীয় ইনিংসের সময় মাঠে ছিলেন না শানাকা। দ্রুতই ধরেন দুবাইয়ের উড়ান। শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ শেষ হওয়ার খুব বেশি সময় না যেতেই দুবাই ক্যাপিটালসের হয়ে ব্যাট করতে নামেন এ অলরাউন্ডার।
সাধারণত কলম্বো থেকে আকাশপথে দুবাই যেতে সময় লাগে সাড়ে ৪ ঘণ্টার মতো। স্টেডিয়াম থেকে বিমানবন্দরের মাঝে সড়কপথ তো আছেই। এত ভ্রমণ ঝক্কি নিয়েও দুবাই ক্যাপিটালসের হয়ে ১২ বলে ৩৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেছেন শানাকা। ইনিংসে ছিল ২টি ছক্কা ও ৪টি চারের বাউন্ডারি। আবুধাবি নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে শানাকার দলও জিতেছে ২৬ রানে।
ভিন্ন দুটি দেশে একই দিনে দুই ম্যাচ খেলা অবিশ্বাস্যই। গত বছরের ডিসেম্বরে আফগানিস্তানের আল্লাহ মোহাম্মদ গজনফার খেলেছিলেন একই দিনে দুই ম্যাচ। সকালে শারজায় অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়ার কাপের ম্যাচ খেলেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। সন্ধ্যায় আবুধাবিতে টি-টেন লিগে খেলেন টিম আবুধাবির হয়ে। তবে সেই দুটি ম্যাচ ছিল একই দেশের দুটি শহরে। সে বিবেচনায় শানাকা তো অবিশ্বাস্যই কিছুই করে দেখালেন।