জন্মদিনে এর চেয়ে বড় উপহার কীই–বা পেতে পারতেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা! একদিন আগেই রশিদ খানকে পেছনে ফেলে লঙ্কান লেগ স্পিনার উঠে এসেছেন টি–টোয়েন্টি বোলিং র্যাঙ্কিংয়ের তালিকায় দুই নম্বরে। আজ নিজের ২৪ তম জন্মদিনে সেই উৎসবটা রাঙালেন আরও দুর্দান্ত কিছু করে। জন্মদিনে টি–টোয়েন্টিতে তাঁর চেয়ে এখন পর্যন্ত ভালো বোলিং করতে পারেননি আর কোনো বোলার।
আজ কলম্বোয় ফাইনালে রূপ নেওয়া সিরিজের শেষ তৃতীয় টি–টোয়েন্টিতে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ নাচল হাসারাঙ্গার ঘূর্ণিজাদুতে। মাত্র ৯ রান দিয়েই এই লেগ স্পিনার ফিরিয়েছেন চার ভারতীয় ব্যাটসম্যানকে।
২০১৪ সালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ইমরান তাহির নিয়েছিলেন ২১ রানে ৪ উইকেট। সেদিন ছিল দক্ষিণ আফ্রিকান লেগ স্পিনারের ৩৫ তম জন্মদিন। এত দিন পর্যন্ত টি–টোয়েন্টিতে এটিই ছিল জন্মদিনে সেরা বোলিং ফিগার।
হাসারাঙ্গা আজ তাঁর উইকেটশিকার শুরু করেন সঞ্জু স্যামসনকে দিয়ে। পঞ্চম ওভারে বোলিং করতে এসেই ভারতীয় উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন। দ্বিতীয় উইকেট তুলে নিতে সময় নিলেন না। এক বল পরেই হাসারাঙ্গার শিকার ঋতুরাজ গায়কোয়াড। আউটের ধরন ওই একই—এলবিডব্লু।
নিজের দ্বিতীয় ওভারে উইকেটের দেখা পাননি হাসারাঙ্গা। দ্বিতীয় স্পেলে ১৫ তম ওভারে বোলিংয়ে আসেন হাসারাঙ্গা। ওই ওভারে আবারও লঙ্কানদের উইকেট এনে দেন ২৪ বছর বয়সী অলরাউন্ডার। একই ওভারের পঞ্চম বলে ফেরান ভুবনেশ্বর কুমারকে। অবশ্য এই উইকেটে সমান কৃতিত্ব পাবেন দাশুন সনাকা। দারুণ দক্ষতায় ক্যাচটি লুফে নেন লঙ্কান অধিনায়ক। নিজের শেষ ওভারে এসে বরুণ চক্রবর্তীকে ফেরান করুনারত্নের হাতে ক্যাচ বানিয়ে। এই লেগ স্পিনারের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ের দিনে ভারত আটকে গেছে ৮১ রানে।
এর আগে টি–টোয়েন্টিতে হাসারাঙ্গার সেরা বোলিং ফিগার ছিল ১২ রান দিয়ে ৩ উইকেট। আজ ছাড়িয়ে গেলেন সেটিকেও। নিজের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ের জন্য জন্মদিনটাকেই যেন বেছে নিলেন লঙ্কান তারকা। একই সঙ্গে দলের সিরিজ জয়ের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল করলেন।