সিলেটে যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপর বাংলাদেশ ছড়ি ঘোরাচ্ছে, ব্যাপারটা তেমনও নয়। যেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১০০-এর বেশি লিড নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, উল্টো নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ লিড নিয়েছে। তবে ব্যাটিংবান্ধব পিচে অনায়াসেই রান করে যাচ্ছে ক্যারিবীয়রা। বাংলাদেশের বিপক্ষে রানের পাহাড় গড়ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
তাওহীদ হৃদয়ের ২৪২ রানের অতিমানবীয় ইনিংসে গতকাল ৩০ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়মিত চিত্র হলেও স্বাগতিকেরা এবার দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছে। তবে ব্যাটাররা সফল হলেও আজ চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের বোলাররা বলতে গেলে কিছুই করতে পারেননি। মাত্র ৩ উইকেট হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। স্কোরবোর্ডে জমা করেছে ৩৪৫ রান। সফরকারীরা পেয়েছে ৩১৫ রানের লিড।
চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ২১৫ রান তাড়া করে বাংলাদেশ জিতেছে ২০০৯ সালে। সেন্ট জর্জেসে সেবার প্রতিপক্ষ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৭ বছর পর ক্যারিবীয়রা এরই মধ্যে ৩১৫ রান করে ফেলেছে ৩ উইকেট হারিয়ে। যদি এই অবস্থাতেও উইন্ডিজ ইনিংস ঘোষণা করে, তবু বাংলাদেশকে টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জিততে হবে।
দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ ওভারে বিনা উইকেটে ৭ রানে আজ সিলেটে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিবীয় দুই ওপেনার জশুয়া ডা সিলভা, ব্র্যান্ডন কিং সাবধানী ব্যাটিং করতে থাকেন। ৮৫ রানে প্রথম উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২২তম ওভারের দ্বিতীয় বলে সিলভাকে (৩০) এলবিডব্লু করেন তাইজুল।
দ্রুতই আরেক ওপেনারকে হারাতে বসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২৬তম ওভারের প্রথম বলে তাইজুলকে সজোরে কাভার ড্রাইভ করেন কিং। তবে বল এত দ্রুত এসেছে যে তাওহীদ হৃদয় বল তালুবন্দী করার সময়ই পাননি। এরপর তিন নম্বরে নামা কাভেম হজ বেঁচে যান রিভিউ নিয়ে। ২৬তম ওভারের পঞ্চম বলে মিরাজকে ডিফেন্ড করতে গিয়ে হজ বল তুলে দেন হাওয়ায়। ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে দাঁড়িয়ে থাকা ফিল্ডার ক্যাচ ধরার পর আম্পায়ার দ্রুত আঙুল তুলে দেন। তবে হজ রিভিউ নিলে দেখা যায় যে বল তাঁর ব্যাট কিংবা গ্লাভসে স্পর্শ না করে শুধুই প্যাডে লেগেছে।
হজ যখন বেঁচে যান, তখন তাঁর রান ১৬। যদিও সে যাত্রায় এলবিডব্লু যাচাই করা হয়নি। তবে দ্বিতীয় উইকেটে হজ-কিংয়ের জুটিতে কেবল ৩৪ রান এসেছে। ৩১তম ওভারের প্রথম বলে কিংকে ফেরান মিরাজ। কিংয়ের ব্যাটের কানায় লাগা বল ক্ষিপ্রতার সঙ্গে প্রথম স্লিপে তালুবন্দী করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
৮৪ বলে ১০ চার ও ১ ছক্কায় ৬১ রান করেন কিং। তিনি যখন বিদায় নেন, তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ৩০.৫ ওভারে ২ উইকেটে ১১৯ রান। লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার আগে এই রানের সঙ্গে ৯ রান যোগ করে সফরকারীরা। এমনকি চা পানের বিরতির আগেও আর কোনো উইকেট হারায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
প্রথম সেশনের খেলা শেষে তুলনামূলক আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তৃতীয় উইকেটে ২২১ বলে ১৬৫ রানের জুটি গড়েন হজ-কেভিন উইকহাম। যাঁর মধ্যে উইকহামের এই ম্যাচ দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছে। ৬৮তম ওভারের চতুর্থ বলে তাঁকে কট এন্ড বোল্ড করেন তাইজুল ইসলাম। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে দ্রুতই বল তালুবন্দী করেন বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনার।
প্রথম ইনিংসে ৬১ রান করা উইকহাম দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ৭৮ রান। তিনি না পারলেও হজ ঠিকই সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। ১৪২ বলে পেয়েছেন তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি। চতুর্থ উইকেটে এরই মধ্যে ৯২ বলে ৬১ রানের জুটি গড়ে ফেলেন আমির জাঙ্গু ও হজ। যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ৮৩ ওভারে ৩ উইকেটে ৩৪৫ রান, তখন আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। যেখানে শেষ বিকেলে আলোর সমস্যায় আগেভাগে খেলা শেষ হয়ে যাওয়া সিলেট টেস্টের নিয়মিত চিত্র হয়ে গেছে।
শেষ পর্যন্ত ৮৩ ওভারে ৩ উইকেটে ৩৪৫ রানেই শেষ হয় চতুর্থ দিনের খেলা। হজ ১৮৯ বলে ১৭ চার ও ১ ছক্কায় ১৪০ রানে এখনো অপরাজিত। জাঙ্গু ২০ রানে ব্যাটিং করছেন। তাছাড়া আজ শেষ বিকেলে দফায় দফায় ফিজিওকে ছুটে আসতে হয়েছে। কখনো শান্ত, কখনো তাইজুল অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এমনকি উইকেটরক্ষক ব্যাটার লিটন দাসকে দেখতে দুই দফা ছুটে এসেছেন ফিজিও। তাইজুল নিয়েছেন ২ উইকেট। মিরাজ পেয়েছেন ১ উইকেট।