বিশ্ব ক্রিকেট প্রশাসনে ভারত বছরের পর বছর ছড়ি ঘোরাচ্ছে বলে আইসিসিকে কটাক্ষ করে অনেকে অনেক কথাই বলেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে চলমান অস্থিরতার মধ্যে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সাবেক চেয়ারম্যান নাজাম শেঠি সামনে এনেছেন আরেকটি বিষয়। তাঁকে নাকি ভারতে ডেকে নিয়ে অপমান করেছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পুরোনো কথা মনে করে শেঠি নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। নির্দিষ্ট কোনো সময়ের কথা উল্লেখ না করলেও শেঠি জানিয়েছেন, ঘটনা ঘটেছিল যখন আইসিসির চেয়ারম্যান ছিলেন এন শ্রীনিবাসন। এতে বোঝা যায়, ঘটনা ১১-১২ বছর আগের। তখন 'বিগ থ্রি' বা তিন মোড়ল-তত্ত্ব নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছিল ও পাকিস্তানকে প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করেছেন সাবেক পিসিবি চেয়ারম্যান। শেঠি বলেন, ‘‘৯ সদস্য এক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। জনাব শ্রীনিবাসন আমার কাছে এসে বলেছিলেন, ‘তুমি কেন একা থাকতে চাচ্ছ? তোমাকে একঘরে করে দেব!’ আরও অনেক কিছুই বলেছিলেন। আমরা নিজেরা আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ, এখানে অসম নীতি ছিল। শ্রীনিবাসন বলেছিলেন, ‘ঠিক আছে। বিষয়টি আমরা পরিবর্তন করছি। আমরা নিজেদেরটাসহ অন্যান্যদের রাজস্ব বাড়াব।’’
কোনো কথাবার্তা ছাড়াই তখন একটা চুক্তি বিসিসিআই বাতিল করেছিল বলে জানিয়েছেন শেঠি। ভারতের আমন্ত্রণে চুক্তি করতে মুম্বাইয়ে গিয়ে অপমানিত হয়েছিলেন বলেই দাবি সাবেক এই পিসিবি চেয়ারম্যানের, ‘‘চুক্তিটা ভালো ছিল। তবে এক বছর পর একটা সিরিজের সময় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) কোনো কথাবার্তা ছাড়াই চুক্তি বাতিল করে। সে বছরের অক্টোবরে আমি ডট দেওয়া লাইনে স্বাক্ষর করতে গিয়েছিলাম। তখন দেখলাম, আগে থেকেই সবকিছু ঠিক হয়ে আছে। তারা হোটেলে আমাদের দেখলও না। এর চেয়ে বড় অপমান আর কী হতে পারে? চেয়ারম্যান ও আমি মুম্বাইয়ে এক হোটেলে বসেছিলাম। বিসিসিআই বলেছিল, ‘সরি। আপনার সঙ্গে আমরা দেখা করতে পারব না।’’
তিন মোড়লের লোভনীয় প্রস্তাব পেলেও তখন পিসিবি না করে দিয়েছিল বলে জানিয়েছেন শেঠি। সাবেক পিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিসিসিআইয়ের আচরণই এরকম। সব সময় তারা বাকিদের অপমান করে। পাকিস্তান এক ঘরে থাকতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল। তখন প্রত্যেকে ভারতের পাশে থাকা শুরু করল। তিন মোড়লের প্রস্তাবে তৃতীয় দল হিসেবে আমাদের যোগ দেওয়ার প্রস্তাব এসেছিল। তবে আমরা তা না করে দিয়েছি।’