এবারের বিপিএল থেকে বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে সাকিব আল হাসানের ফরচুন বরিশালের। বরিশালের হার ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে সাকিবের ব্যাটিংয়ে না নামা। এই আসরে ব্যাট হাতে নিজেকে ভিন্নভাবে চিনিয়েছেন এই তারকা অলরাউন্ডার। এখন পর্যন্ত আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও তিনি।
রানের চেয়েও এবার নজর কেড়েছে সাকিবের স্ট্রাইক রেট। সেরা রান সংগ্রাহক তালিকায় সাকিবের ১৭৪.৪২ স্ট্রাইক রেটের ধারেকাছে নেই কেউই। অথচ আজ দলের বাঁচা-মরার ম্যাচে ব্যাটিংয়েই নামেননি বরিশাল অধিনায়ক। ওই সময় ব্যাটিং করেন করিম জানাত ও আজই প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা শ্রীলঙ্কান ব্যাটার ভানুকা রাজাপক্ষে।
দুজনে অপরাজিত থেকে শেষ করলেও বরিশালের দুর্দান্ত শুরুর মতো শেষটা হয়নি। তাইতো ইনিংস থেমেছে ১৭০ রানে। অথচ মেহেদী হাসান মিরাজ ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটিংয়ের সময় একপর্যায়ে রান ২০০ হওয়ার মতো অবস্থা ছিল। সেখান থেকে সাকিব ব্যাটিংয়ে না নেমে নামান জানাত ও রাজাপক্ষে।
কেন সাকিব ব্যাটিংয়ে নামেননি প্রশ্নে ম্যাচশেষে বরিশাল কোচ নাজমুল আবেদিন ফাহিম বলেছেন, ‘এত ভালো প্ল্যাটফর্ম হওয়ার পর ওর মনে হয় মাথায় কাজ করেছিল রাজাপক্ষে বা করিম জানাতকে ফ্রি করে দিলে ওরা যদি হাত খুলে খেলে। এটা ব্যাপার না যে ওরা কত রান করেছে। তা যদি ভালো রেটে করতে পারে, সেটা দলের কাজে আসবে। ও শেষে গিয়ে ওর কাজটা করবে। কিন্তু আমার মনে হয় না সেই পরিকল্পনা কাজে লেগেছে। আমরা যেটা প্রত্যাশা করেছিলাম সেটা করতে পারেনি। সেটা উইকেট, অন্য কোনো বা ভালো বোলিং কিংবা ওদের নিজেদের ইনটেন্টের কারণে হোক তারা করতে পারেনি। সেটার কারণেই কিন্তু আমরা পিছিয়ে গিয়েছি। যে ফাউন্ডেশন শুরুতে দিয়েছিল, আমাদের সুযোগ ছিল ১৯০ বা তারও বেশি স্কোর ছাড়িয়ে যাওয়ার। সেই ব্যাটিং শক্তি কিন্তু আমাদের শেষের দিকে ছিল। যেটা আমরা ব্যবহার করতে পারিনি।’
সিদ্ধান্ত সাকিবের ছিল জানিয়ে ফাহিম আরও বলেন, ‘এসব অধিনায়কের কলই হয় সাধারণত। তবে এমন না যে আমাদের সঙ্গে আলাপ করেনি। ও নিজে থেকে ভালো অনুভব করছিল যে ওরা (জানাত ও রাজাপক্ষে) ভালো খেলোয়াড়। ওরা যদি যায় দুই–এক ওভার ঝোড়ো ব্যাটিং করে দিয়ে আসতে পারে…সেরকম একটা অবস্থায় আমরা ছিলামও। ১-২ উইকেট হারালেও অসুবিধা হতো না আমাদের। কিন্তু সেই সুযোগটা সেভাবে কাজে লাগাতে পারিনি আমরা।’