হোম > খেলা > ক্রিকেট

ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প হৃদয়ের কাছেই শুনতে বললেন কোচ

ক্রীড়া প্রতিবেদক, ঢাকা

বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। ছবি: সংগৃহীত

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে বাংলাদেশের হৃদয় জুড়ানো দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে সবাই অপেক্ষা করছিলেন তাওহীদ হৃদয়ের। কিন্তু তিনি না এসে হাজির হলেন দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। যেখানে তিনি প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন রেকর্ড গড়া ২৪২ রানের হার না মানা ইনিংস খেলা তাওহীদ হৃদয়ের।

১৮৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে যখন ধুঁকছিল বাংলাদেশ, তখন সেখান থেকে দলের রান ৩৮৬-ও উন্নিত করতে অসাধারণ ভূমিকা রাখেন তাওহীদ হৃদয়। ৩৬৯ বলে ২২টি চার ও ১১টি ছয়ে সাজানো ইনিংসটি তাঁর দায়িত্বশীল ব্যাটিং, অসাধারণ ধৈর্য আর পরিস্থিতি বুঝে খেলারই পরিচায়ক। যার প্রশংসা করলেন প্রধান কোচ।

দলের পক্ষ থেকে সবসময় খেলোয়াড়দের বলা হয়, সুযোগ পেলে সেটিকে কাজে লাগাতে হবে। ক্রিজে থাকা অবস্থায় নিজের দায়িত্ব নিতে হবে এবং দলের প্রয়োজনে যা করা দরকার, সেটিই করতে হবে। এই দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়ে ফিল সিমন্স বললেন, ‘হৃদয় ঠিক সেই কাজটিই করেছে। আমরা তার কাছে যা চেয়েছিলাম, সে তার সবকিছুই করেছে।'

হৃদয়ের ইনিংসের প্রশংসা করতে গিয়ে কোচ আরও বলেন, ‘এটি ছিল অবিশ্বাস্য একটি ইনিংস। প্রতিপক্ষ যখন বাউন্ডারিতে ফিল্ডার সাজিয়ে রেখেছিল, তখনো সে বাউন্ডারি বের করে নিতে পেরেছে, হাঁকিয়েছে ছক্কাও। এমনকি ডাবল সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ার পরও নিজের ব্যাটিং ধরে রেখেছে। সব দিক বিবেচনায় এটি ছিল তার অসাধারণ একটি প্রচেষ্টা।’

শুধু তাই নয়, খেলার পরিস্থিতি বোঝা, কোন সময় কোন শট খেলতে হবে এবং শেষ তিন ব্যাটারকে কখন স্ট্রাইক দিতে হবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই হৃদয় অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে বলে মনে করেন সিমন্স।

অথচ এই হৃদয়ই মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্টে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে ব্যর্থ। দুই ইনিংসেই কিছুটা তাড়াহুড়ো করে শট খেলতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে দেন তিনি। এরপর তাঁর টেস্ট খেলার ধৈর্য নিয়েও উঠেছিল প্রশ্ন। কিন্তু নিজের দ্বিতীয় টেস্টেই সব সমালোচনার জবাব দিয়েছেন ব্যাট হাতে।

হৃদয়ের এমন ঘুরে দাঁড়ানোর রহস্য কী? সংবাদ সম্মেলনে কোচের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল সেটিই। জবাবে ফিল সিমন্স বলেন, এই প্রশ্নের উত্তর হৃদয়ই সবচেয়ে ভালো দিতে পারবে। তবে তাঁর মতে, মিরপুরে কয়েকটি বেপরোয়া শট খেললেও সেটি ছিল হৃদয়ের ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ। তাই একটি ম্যাচের পারফরম্যান্স দিয়ে তাঁকে বিচার করা ঠিক হবে না। বরং হৃদয় দ্রুত পরিণত হচ্ছে, আর এই ইনিংসেই তার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

প্রথম টেস্টের পর হৃদয়ের সঙ্গে আলাদাভাবে কোনো আলোচনা হয়েছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সিমন্স জানান, ব্যক্তিগতভাবে হৃদয়ের সঙ্গে বিশেষ কোনো কথা হয়নি। বরং দলের সব ব্যাটারের সঙ্গেই বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তৈরি হওয়া চাপ এবং সেখান থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসতে হবে, তা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন তাঁরা।

এদিকে শেষ দুই ব্যাটার তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে হৃদয় যোগ করেন ২০২ রান। এক প্রান্ত আগলে রেখে অন্য প্রান্তে দুই ব্যাটারকে সুযোগ করে দিয়েছেন। পাশাপাশি নিজের ব্যাটিংয়েও রেখেছেন চার-ছক্কার ঝলক।

তাওহীদ হৃদয়ের ২৪২ রানের ইনিংস শুধু বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসেই নতুন অধ্যায় যোগ করেনি, বরং সমালোচনা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে কীভাবে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হয়, সেটিও দেখিয়ে দিয়েছেন এই তরুণ ব্যাটার।

শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সেমিফাইনালের লড়াইয়ে বাংলাদেশ

সিলেটে বাংলাদেশের হৃদয়ছোঁয়া দিন

ব্যর্থতার দিনেও রেকর্ড গড়লেন কোহলি

হৃদয় ২৪২, বাকিরা ১৪৪

ডাবল সেঞ্চুরিতে সবার ওপরে হৃদয়

হৃদয়ের হৃদয়কাড়া ডাবল সেঞ্চুরি

সেঞ্চুরির পর হৃদয়ের ১৫০

সেঞ্চুরিতে জবাব দিলেন হৃদয়

ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে একা লড়ছেন হৃদয়

শামির অবসরে ভারতীয় বোর্ডকে কাঠগড়ায় তুললেন শাস্ত্রী