মিরপুরে প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ২৬ রানে হেরে সিরিজ শুরু করে বাংলাদেশ। একই মাঠে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে কিউইদের বিপক্ষে ৬ উইকেটে রাজকীয় জয় পায় মেহেদী হাসান মিরাজের দল। আজ চট্টগ্রামে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে ব্যাটিংয়ে শুরুটা খারাপ হলেও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। কিন্তু ফিনিশিংটা সেভাবে দিতে পারেনি স্বাগতিকেরা।
২০১০ ও ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুবার ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। সেই দুবার কিউইদের হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। আজ চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে তৃতীয় ওয়ানডেতে জিতলে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয়বারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জিতবে বাংলাদেশ। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে কিউইদের সামনে ২৬৬ রানের লক্ষ্য দিয়েছে স্বাগতিকেরা। লিটন দাস-নাজমুল হোসেন শান্তর ১৬০ রানের জুটি ছাড়া বলার মতো কিছুই ছিল না বাংলাদেশের ইনিংসে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে শান্ত আজ যখন ব্যাটিংয়ে নেমেছেন, তখন বাংলাদেশের স্কোর ২.১ ওভারে ২ উইকেটে ৯ রান। দুই ওপেনার সাইফ হাসান (০) ও তানজিদ হাসান তামিমকে (১) ফিরিয়েছেন উইলিয়াম ও’রুর্ক। সৌম্য সরকারের সঙ্গে শান্তর জুটিটা যখন জমে উঠছিল, তখন ফের ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। নবম ওভারের তৃতীয় বলে ও’রুর্কের বলে ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়ে ফিরেছেন সৌম্য (১৮)।
সাইফ, তামিম, সৌম্যর বিদায়ে বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় ৮.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ৩২ রান। চাপ সামলে লিটন দাসের সঙ্গে ধীরস্থিরভাবে এগোতে থাকেন শান্ত। ১২তম ওয়ানডে ফিফটি তুলতে শান্তর লেগেছে ৭০ বল। ফিফটির পর বাংলাদেশের বাঁহাতি ব্যাটার হাত খুলে খেলেছেন। স্ট্রাইক রোটেটের পাশাপাশি বাজে বলগুলোকে বাউন্ডারিতে পরিণত করেছেন তিনি।
লিটনের খেলার ধরনও ছিল শান্তর মতো। ধীরস্থির শুরুর পর থিতু হয়ে রানের গতি বাড়াচ্ছিলেন লিটন। মনে হচ্ছিল ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি পেয়ে যাবেন। কিন্তু তা আর হলো না। ৩৯তম ওভারের প্রথম বলে জেইডেন লেনক্সকে ইনসাইড আউট করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান লিটন। ৯১ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় লিটন করেন ৭৬ রান। তাতে ভেঙে যায় চতুর্থ উইকেটে লিটন-শান্তর ১৭৮ বলে ১৬০ রানের জুটি।
লিটন সেঞ্চুরি করতে না পারলেও শান্ত তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন। চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি করতে শান্তর লেগেছে ১১৪ বল। কিন্তু তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পর ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। ১১৯ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কায় করেন ১০৫ রান। ৪৩তম ওভারের শেষ বলে তাঁকে ফিরিয়েছেন লেনক্স।
শান্তর বিদায়ে বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় ৪৩ ওভারে ৫ উইকেটে ২২১ রান। স্বাগতিকেরা এরপর সেভাবে স্কোরবোর্ডে রান তুলতে পারেনি। শেষ সাত ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৪৫ রান যোগ করে বাংলাদেশ। ৫০ ওভার শেষে স্বাগতিকদের স্কোর হয়েছে ৮ উইকেটে ২৬৫ রান। শান্তর ১০৫ রানই বাংলাদেশের ইনিংসে সর্বোচ্চ। নিউজিল্যান্ডের ও’রুর্ক ৭ ওভারে ৩২ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। এক ওভার মেডেন দিয়েছেন। লিস্টার, লেনক্স দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। এক উইকেট পেয়েছেন ডিন ফক্সক্রফট।