হোম > খেলা > ক্রিকেট

‘পরীক্ষা’টা নিয়ে বিসিবির আশা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

কটা দিন বড় ব্যস্ততা গেল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্মকর্তাদের। এই ব্যস্ততা আগামী ৬ অক্টোবর বোর্ডের নির্বাচন সামনে রেখে নয়। ২০২৪ থেকে ২০৩১—আইসিসির পরবর্তী চক্রে আটটি ইভেন্টের ছয়টিতে স্বাগতিক হতে প্রস্তাবনা তৈরি করেছে বিসিবি, যেটি আইসিসিতে জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল গত পরশু সোমবার। গত কদিনে বিসিবির কর্মকর্তাদের ব্যস্ততা ছিল এটি নিয়েই। 

পরীক্ষার খাতা জমা দেওয়া শেষ। এবার ফলের অপেক্ষা, যেটি পাওয়ার কথা আগামী নভেম্বরে আইসিসির পরবর্তী বোর্ড সভায়। বিডিং প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার পর বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে বললেন, ‘কতটা কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পড়তে হচ্ছে, টেবিলে বসলে বলা যাবে। তবে সবাই বিডিং করে বড় আশা নিয়েই।’

বাংলাদেশ সর্বশেষ আইসিসির ইভেন্ট আয়োজন করেছে ২০১৪ সালে (টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ)। তার আগে ২০১১ সালে ভারত-শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছে বাংলাদেশ। দুটি আইসিসির ইভেন্টই বিসিবিকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী হতে ভালো সহায়তা করেছে। ২০১১ বিশ্বকাপ আয়োজক হিসেবে বিসিবি পেয়েছিল ১৮৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে বিসিবি পেয়েছে ১৩০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। ‘বিগ থ্রি’ অর্থাৎ ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ভাগাভাগি করে নেওয়ায় ২০১৫ থেকে ২০২৩—এই আট বছরে বাংলাদেশ আর কোনো আইসিসি টুর্নামেন্টে স্বাগতিক হওয়ার সুযোগ পায়নি।

তবে ২০২৪ থেকে ২০৩১ পর্যন্ত আইসিসির আটটি টুর্নামেন্টে স্বাগতিক হওয়ার পথটা আবার উন্মুক্ত হয়েছে। ক্রিকেটের বিশ্বায়নে আইসিসি সব মহাদেশেই ইভেন্ট আয়োজন করার নীতি গ্রহণ করেছে। আর এতেই এই চক্রে ১৭টি দেশ আইসিসির ইভেন্টের স্বাগতিক হতে আগ্রহ দেখিয়েছে। স্বাভাবিকভাবে আইসিসির টুর্নামেন্ট আয়োজনে বেশ কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পড়তে হচ্ছে আগ্রহী বোর্ডগুলোকে। 

বিসিবি এককভাবে স্বাগতিক হতে চেয়েছে ২০২৫ ও ২০২৯ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আয়োজনের শর্ত হচ্ছে, অন্তত তিনটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম থাকতে হবে। বাংলাদেশের সেটি আছে। তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য সাত থেকে আটটি ভেন্যু থাকতে হবে।  

ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজনে লাগবে ১০টি স্টেডিয়াম। উপমহাদেশে ভারত বাদে কারও এককভাবে এই মুহূর্তে এ রকম আয়োজনের সক্ষমতা নেই। বাংলাদেশ তাই শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজন করতে চেয়েছে দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আর তারা পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজন করতে চায় ২০২৭ ও ২০৩১ বিশ্বকাপ।

বিসিবি ছয়টি ইভেন্ট আয়োজনের প্রস্তাব দিলেও সবগুলো পাওয়া সম্ভব নয়। বিশ্বায়নের নীতি বাস্তবায়নে আইসিসি অঞ্চলভেদে সমানভাবে ইভেন্ট বণ্টন করবে। যদি একটি টুর্নামেন্ট ২০২৪ সালে উপমহাদেশে হয়, পরেরটি হতে পারে আরেক অঞ্চলে। এ ক্ষেত্রে আট বছরের এই চক্রে একটি ইভেন্ট এককভাবে আয়োজনের সুযোগ পেলেই বিসিবি খুশি। সঙ্গে আরেকটি যৌথভাবে যদি আয়োজনের সুযোগ পায়, তাহলে তো কথাই নেই! স্বাগতিক হতে বিসিবিকে আশাবাদী করছে দুটি বিষয়। নিজাম উদ্দিন বললেন, ‘সব শর্ত পূরণ করার প্রস্তাব দিয়েই আমরা কাগজ জমা দিয়েছি। আমরা আশাবাদী। অতীতে এ ধরনের ইভেন্ট আয়োজন করে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছি। এটাই আমাদের মূল শক্তি। আমাদের অভিজ্ঞ দল আছে। আরেকটা শক্তি হচ্ছে সরকারের সহায়তা। সরকারের কাছ থেকে আমরা যে পর্যায়ে আশ্বাস পেয়েছি, সেটি অতুলনীয়।’

আইসিসির ইভেন্টের আয়োজক হতে পারলে দ্রুত সময়ে যে কোষাগার ভরিয়ে ফেলা সম্ভব, তা অতীতেই দেখা গেছে। আর্থিক লাভবান হওয়ার বিষয় তো আছেই; একটি বৈশ্বিক আয়োজন দেশের ব্র্যান্ডিং, খেলাটার উন্নয়ন ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতেও সমান সহায়তা করে। বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাই বললেন, ‘এখানে কৌশলগত বিষয় আছে। আমরা আর্থিক লাভবান হওয়ার দিকে যাব, নাকি লিগ্যাসি ডেভেলপমেন্টে যাব। একটা আইসিসির ইভেন্টের স্বাগতিক হলে কী হয়? পুরো খেলার উন্নয়ন হয়। এগুলোতেও অনেকে প্রাধান্য দেয়। সব সময়ই যে আর্থিক লাভজনক হতে হবে, তা নয়। বিশেষ করে বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট দিয়ে দেশকে ব্র্যান্ডিং করার একটা বড় সুযোগ।’

স্বাগতিক হতে আগ্রহী ক্রিকেট বোর্ডগুলো প্রস্তাবনা জমা দিয়েছে। এখন নানা দিক যাচাইবাছাই করবে আইসিসির সংশ্লিষ্ট কমিটি। কমিটি সুপারিশ করে দেবে বোর্ডকে। সবকিছু বিবেচনা করে বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেবে আইসিসির বোর্ড, যেটি জানা যেতে পারে নভেম্বরে। বিসিবির আশা, এ ‘পরীক্ষা’য় প্রত্যাশিত নম্বরই তারা পাবে। 

এগোলেন সুপ্তা, পেছালেন জ্যোতি

সবার আগে ফাইনালে বিসিবির দল

নিদাহাস ট্রফিতে শেষ বলে ভারতের ছক্কার স্মৃতি মনে পড়ল লিটনের

বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ, এখন বাংলাদেশের সমীকরণ কী

কার ডাকে শেষ মুহূর্তে বিপিএল খেলতে এসেছেন ওকস

বাংলাদেশ-ভারতের রাজনৈতিক বৈরিতা নিয়ে লিটনের ‘নো অ্যানসার’

বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে দুশ্চিন্তা বেড়েই চলেছে দক্ষিণ আফ্রিকার

বিপিএল থেকে বিদায় নিয়ে উইকেটের সমালোচনায় লিটন

শেষ বলে ছক্কা মেরে রংপুরকে বিদায় করলেন সিলেটের ওকস

ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের পর নিউজিল্যান্ডের নতুন দুশ্চিন্তা