দেশের ক্রিকেটে একসময় সবচেয়ে সম্ভাবনাময় স্পিনার হয়ে উঠেছিলেন নাজমুল ইসলাম অপু। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে। কিন্তু নাসুম আহমেদ-মেহেদী হাসানদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পেরে ওঠেননি। ২০১৮ সালে জাতীয় দল থেকে সেই যে বাদ পড়েছেন, আর ফেরা হয়নি।
দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা এরপরও অপুকে মনে রেখেছেন উইকেট পাওয়ার পর তাঁর নাগিন নাচের কারণে। তবে এবারের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগকে (বিপিএল) বোধ হয় নিজেকে নতুন করে ফিরে পাওয়ার মঞ্চ হিসেবেই বেছে নিয়েছেন অপু। সেই সঙ্গে পাল্টে ফেলেছেন তাঁর উদ্যাপনও। উইকেট পাওয়ার পর এখন আর নাগিন নয়, ‘পুষ্পা সেলিব্রেশন’ করছেন তিনি।
ভারতীয় চলচ্চিত্র পুষ্পা: দ্য রাইজের অভিনেতা আল্লু অর্জুন এর মতো নিজের দাড়িতে হাত বুলিয়ে বিশেষ চাহনিতে দেখা যাচ্ছে অপুকে। সিলেট সানরাইজার্সের বাঁহাতি স্পিনার গত শনিবার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের বিপক্ষে ১৭ রানে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। অবশ্য দল হেরে যাওয়ায় সেদিন ঢাকা পড়ে গেছে তাঁর উজ্জ্বল পারফরম্যান্স।
তবে আজ মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকার বিপক্ষে আরও বেশি আলো ছড়িয়েছেন অপু। ১৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ-তামিম ইকবালদের ব্যাটিং লাইন আপ ধসিয়ে দিয়েছেন তিনি। সিলেটের ৭ উইকেটের জয়ের দিনে ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছে অপুরই হাতে। পুরস্কার নিতে এসেই ৩০ বছর বয়সী স্পিনার নতুন উদ্যাপনের রহস্য ফাঁস করেছেন। বলেছেন, ‘দলের অধিনায়ক (মোসাদ্দেক) আমার থেকে যে বোলিং আশা করেছিল, সেটা করতে পেরে খুব খুশি।’
সঞ্চালক পুষ্পা উদ্যাপনের ব্যাপারে জানতে চাইলে অপু বলেন, ‘পুষ্পা সিনেমা দেখে আমি অনুপ্রাণিত হয়েছি। নায়ক চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করে। আমিও যেকোনো চ্যালেঞ্জ জিততে উন্মুখ হয়ে থাকি। এটাই এখন আমার সিগনেচার স্টাইল।’
পুষ্পা: দ্য রাইজ চলচ্চিত্রে আল্লু অর্জুনও ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে এসে হিরো বনেছেন। অপুর ক্যারিয়ারও এখন তেমনই ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে। এখান থেকে তিনিও আল্লু অর্জুনের মতো নায়ক হয়ে উঠতে পারেন কি না, সেটা সময়ই বলে দেবে। তবে দুই ম্যাচে ৭ উইকেট নিশ্চয় নির্বাচকদের নজর কাড়তে ভূমিকা রাখবে। এই ছন্দ ধরে রাখতে পারলে হয়তো অপুর জন্য জাতীয় দলের দরজা আবার খুলে যাবে।