১৯৯৯ বিশ্বকাপে ঐতিহাসিক জয়ের পর পাকিস্তানকে ১৬ বছরে হারাতে পারেনি কোনো ম্যাচ। সেই বাংলাদেশ বদলে গেল গত ১১ বছরে। ২০১৫ সালে ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে ওয়ানডে সিরিজে ঐতিহাসিক ধবলধোলাইয়ের পর তাদের (পাকিস্তান) বিপক্ষে জয় একরকম অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। এমনকি টেস্টেও পাকিস্তানকে তারা হারাচ্ছে বলে কয়ে।
২০০১ থেকে শুরু করে ২০২৪ পর্যন্ত ১৩ টেস্টে পাকিস্তানকে হারাতেই পারেনি বাংলাদেশ। বলার মতো সাফল্য বাংলাদেশের ছিল কেবল খুলনার সেই ঐতিহাসিক ড্র। ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে পাকিস্তানের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে কথা বলা শুরু করেছে ২০২৪ সাল থেকেই। পাকিস্তানকে তাদের মাঠে ২-০ ব্যবধানে ধবলধোলাইয়ের পর আজ সিলেটেও গড়ল ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি।
সিলেটে আজ দ্বিতীয় টেস্টের পঞ্চম দিনে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জয়ের কীর্তি গড়ল নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন। টেস্ট ইতিহাসে বাংলাদেশ শুধু জিম্বাবুয়ে, পাকিস্তানের বিপক্ষেই টানা চারটি করে ম্যাচ জিতেছে। সিলেটে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে যখন শান্ত এসেছেন, তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে এটাই কি বাংলাদেশের সেরা অর্জন কি না। উত্তরে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘এখন পর্যন্ত (সেরা অর্জন)। তবে আমি মনে করি সামনে আরো অনেক টেস্ট ম্যাচ বাংলাদেশ খেলবে। সেখানে আরও অনেক ভালো অর্জন হবে আমাদের। এই আশাই করছি। সব মিলিয়ে আমি বলব যে এই চার ম্যাচ আমাদের কাছে ভেরি স্পেশাল। আমরা অনেক ভালো ক্রিকেট খেলেছি।’
পাকিস্তানকে দুইবার ধবলধোলাই করলেও শান্তর দৃষ্টিতে আরও অনেক জায়গায় বাংলাদেশের উন্নতি করতে হবে। বিশেষ করে এবার মিরপুর ও সিলেটে মাঝেমাঝে প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করেছিল পাকিস্তান। যদিও বেশির ভাগ সময় বাংলাদেশ দাপট দেখিয়ে খেলেছে। এমনকি দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ রিভিউ না নেওয়ায় খাদের কিনারা থেকে সেঞ্চুরি করে দলকে ২৭৮ পর্যন্ত টেনে নিয়েছিলেন লিটন।
অস্ট্রেলিয়া, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো প্রথম সারির দলের বিপক্ষেও নিয়মিত জয়ের অভ্যাস তৈরি করতে হবে বলে মনে করেন শান্ত। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘সব সময়ই আমি বলি যে আমাদের টেস্ট দলটা আস্তে আস্তে তৈরি করতে হবে। আরও অনেক উন্নতির জায়গা রয়েছে। এই জায়গাগুলো ঠিকঠাক করতে হবে। যখন আমরা দেশ ও দেশের বাইরে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলব, তখন আমি বলব যে আমাদের দলটা আগের চেয়ে অনেক ভালো অবস্থানে যাচ্ছে।’
মিরপুরে প্রথম টেস্টে গ্যালারিতে যে পরিমাণ দর্শক এসেছিলেন, সিলেট স্টেডিয়ামের গ্যালারি ফাঁকাই দেখা গেছে। আর আজ পঞ্চম দিনে এক পর্যায়ে ম্যাচ বাংলাদেশের হাত থেকে বের হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়ে গিয়েছিল। ২০০৩ সালের মুলতানের ইনজামাম উল হক কি এবার হয়ে উঠবেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। কিন্তু তা আর হয়নি। অষ্টম উইকেটে সাজিদ-রিজওয়ানের ৫৪ রানের জুটির পর ৩৫৮ রানেই গুটিয়ে গেছে পাকিস্তান।
তানজিদ হাসান তামিম ক্যাচ ধরার পর যখন পাকিস্তানের গল্প শেষ হয়ে যায়, তখন শান্ত-জয়রা উদযাপনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ডাগআউট থেকে করতালির মতো সিলেটের গ্যালারি থেকেও শোনা গেছে উচ্ছ্বাস। দর্শকদের ধন্যবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, ‘সেরকম তো বুঝি না। কারণ, আমরা মাঠে আমাদের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকি। তবে গ্যালারিতে যে কয় জন দর্শকই ছিলেন, তাঁরা যেভাবে সমর্থন দিয়েছেন তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। একটা টেস্ট ম্যাচে এসে সেভাবে সমর্থন করেছে। একটা সময় আজকে দেখছিলাম যে যখন উইকেট পড়ছিল না, গ্যালারি থেকে সেই সমর্থনটা আমরা পাচ্ছিলাম। আমি বলব যে টেস্ট ক্রিকেটে দর্শকরা কম বেশি যারাই এসেছেন, তারা খেলার মোমেন্টামটা বুঝতে পেরে আমাদের সমর্থন দিয়েছেন। তাদের একটা ধন্যবাদ দেওয়া উচিত।’
পাকিস্তানকে টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাই করে ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে ভারতকে টপকে পাঁচে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) কাছ থেকেও বাংলাদেশ। দুই ধাপ এগিয়ে শান্তর দল এখন টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে সাত নম্বরে অবস্থান করছে। ২৬ বছরের ইতিহাসে টেস্টে এটাই বাংলাদেশের সেরা র্যাঙ্কিং। বিপরীতে পাকিস্তান দুই ধাপ পিছিয়ে আট নম্বরে নেমে গেছে।