এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করার প্রস্তাব প্রত্যাহার এবং নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
আজ বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এই দাবি জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিঞা গোলাম পরওয়ার।
চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক দুটি পদক্ষেপ এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের খসড়া আচরণবিধি নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান ও ৩ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
নির্বাচন কমিশন থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রস্তাবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণার সুপারিশ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াতে ইসলামী চিঠিতে উল্লেখ করে, এই প্রস্তাব কার্যকর হলে দেশের ৩০ হাজারেরও বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক লাখ শিক্ষক ও কর্মচারী স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন।
দলটির মতে, এই সিদ্ধান্ত সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে বর্ণিত সমতা ও বৈষম্যহীনতার মূলনীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। যোগ্য নাগরিকদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় এই প্রস্তাবিত বিধানটি পুনর্বিবেচনা, সংশোধন বা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানানো হয়।
চিঠিতে ইসি সচিবালয়ে সম্প্রতি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া ৬৭ বছর বয়সী অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আলমের নিয়োগ নিয়ে গভীর ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী দাবি করে, একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ওই কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি ইতিমধ্যে জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও ভাবমূর্তি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন এবং আস্থাহীনতা তৈরি করেছে। অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে এই বিতর্কিত নিয়োগ অবিলম্বে বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
১. এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্যতা সংক্রান্ত প্রস্তাবিত বিধান সংবিধানের আলোকে পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন বা প্রত্যাহার করা।
২. নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে সম্প্রতি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত ৬৭ বছর বয়স্ক মো. সামসুল আলমের নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করা।
৩. গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের খসড়া আচরণবিধিমালার ওপর জামায়াতে ইসলামীর দাখিলকৃত মতামত ও প্রস্তাবসমূহ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সমাধান নিশ্চিত করা।
অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের স্বার্থে ইসিকে অবিলম্বে এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।