রাষ্ট্রপতি আদেশ (প্রেসিডেনশিয়াল অর্ডার) না মানলে সরকার ও সংসদ অবৈধ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর যেই প্রেসিডেনশিয়াল অর্ডার জারি হয়েছিল, সেই অর্ডারের ভিত্তিতেই সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু বিএনপি জনগণকে বোকা বানিয়ে ধোঁকা দিতে চেষ্টা করছে।
আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন মিলনায়তনে ‘গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ: উত্তরণে আইনজীবীদের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন। আইনজীবী ঐক্য পরিষদ এ সেমিনারের আয়োজন করে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি জুলাই সনদ মানবে বললেও গণভোটের রায় মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেয় না। কারণ, গণভোটের রায় মেনে নিলেই জুলাই সনদে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট বাতিল হয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই সনদ অক্ষরে-অক্ষরে পালন করার প্রতিশ্রুতি দিলেও গণভোটের রায় মেনে নিচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, জুলাই সনদে ঐকমত্য কমিশন যেই ৮৪টি প্রস্তাব করেছে, তার মধ্যে রাষ্ট্র সংস্কারের মুখ্য প্রস্তাবগুলোতে বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিল।
জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, জুলাই সনদ মানলে বিএনপির সেই নোট অব ডিসেন্টের আলোকে জুলাই সনদ কার্যকর হবে। ফলে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রধান-প্রধান সমস্যাগুলো সংস্কার হবে না। কিন্তু গণভোট মানলে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট বাতিল হয়ে যাবে। কারণ, গণভোটের ব্যালটে নোট অব ডিসেন্ট ছিল না।
জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে রাষ্ট্রপতির আদেশ দেওয়ার এখতিয়ার নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য শিশির মনির বলেন, ‘আমাদের সংবিধানে ট্রানজিশনাল পিরিয়ডের বিষয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান রয়েছে। একটি হলো ১৫০ অনুচ্ছেদ এবং অন্যটি চতুর্থ তফসিল। এগুলো ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধান-সংক্রান্ত। সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে বলা হয়েছে, এই সময়ে রাষ্ট্রপতি আদেশ দিতে পারবেন। তাই এসব আদেশের বৈধতা নিয়ে বিতর্কের সুযোগ নেই।’
শিশির মনির বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ক্রান্তিকাল। এটি একটি ট্রানজিশনাল পিরিয়ড উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সময়ে ১৯৭২ সালে যদি আদেশ দেওয়া যায়, ১৯৭৩ সালে যদি আদেশ দেওয়া যায়, তাহলে ২০২৫ সালে ট্রানজিশনাল পিরিয়ডে আদেশ দেওয়া যাবে না কেন?’
জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘সরকার যদি এর বিপক্ষে যুক্তি দেখাতে পারে যে, ওই সময়ের সরকারগুলো ট্রানজিশনাল পিরিয়ডে আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা কোথা থেকে পেয়েছিল, তাহলে আমরা আমাদের যুক্তি প্রত্যাহার করে নেব।’
সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলীর সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সহসম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. সাইফুর রহমান, বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দীন সরকার, সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম প্রমুখ।