ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। কিছু আসনে ফল ঘোষণায় বিলম্ব হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান। তবে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান হবে ইতিবাচক ও কল্যাণমুখী।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১২টায় রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি জানান, সরকার দ্রুত অফিশিয়াল ফল ঘোষণা করলে জোটের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত দৃষ্টিভঙ্গি জাতির সামনে তুলে ধরা হবে। তিনি বলেন, ‘আপনারা আশ্বস্ত থাকতে পারেন, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হবে ইতিবাচক ধারার রাজনীতি, কল্যাণ ধারার রাজনীতি, মানুষের জন্য রাজনীতি, দেশের জন্য রাজনীতি। আমরা বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করার রাজনীতি করব না।’
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে একটি আয়াত পাঠ করে তার বাংলা অনুবাদ তুলে ধরেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ভালো কাজে সহযোগিতা এবং অকল্যাণকর কাজে বিরত থাকার নীতিতেই তাঁরা রাজনীতি করতে চান।
কিছু আসনে ফল ঘোষণায় দেরি হওয়াকে ‘অসুস্থ ধারার রাজনীতি’র পরিচায়ক বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। বিশেষ করে ঢাকা-৮ আসনে ফল ঘোষণায় বিলম্ব হওয়ায় প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, কোনো কোনো আসনে সই করা ফলাফলের শিটে এগিয়ে থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও পরে বিভিন্ন অজুহাতে ফল ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, ‘পোস্টাল ভোট মিলিয়ে দেখা হবে—এমন নানা কথা বলা হচ্ছে। বিষয়গুলো আমরা বুঝতে পারছি।’
কারচুপির আশঙ্কা রয়েছে কি না—এই প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, অনেক কিছু ঘটেছে, তবে এখনই বিস্তারিত কিছু বলতে চান না। সব তথ্য হাতে এলে ১১ দল মিলে পর্যালোচনা করে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হবে।
ফল মেনে নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শফিকুর রহমান জানান, তাঁদের রাজনীতি হবে ইতিবাচক। তবে ফল গণনায় বিলম্বের জন্য কারা দায়ী, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জামায়াতের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত নির্বাচিত প্রার্থীদের তথ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেগুলো প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে; অফিশিয়াল ফল ঘোষণার আগে তা চূড়ান্ত বলা যাবে না।
জামায়াত আমির আরও জানান, ফল ঘোষণার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে মামুনুল হক, নাহিদ ইসলামসহ জোটের শরিক দলের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।