বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতি পরিবারকে যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, তার সুফল নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এ বিষয়ে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেছেন, ‘বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড জনগণ পর্যন্ত পৌঁছাবে তো? ২০০০ টাকার কার্ড নিতে ১০০০ টাকার ঘুষ দেওয়া লাগবে না তো?’
আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর মিরপুরে আদর্শ হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত ঢাকা-১৫ আসনের নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দিয়ে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেছেন, একদিকে বলা হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, অন্যদিকে ঋণখেলাপিদের সংসদে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে, আদালতকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। যদি প্রকৃতপক্ষে জনগণকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্য থাকে, তবে কেউ কোনো ঋণখেলাপিকে মনোনয়ন দিতে পারে না।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘যারা ঋণ পরিশোধ করেনি, তারা সংসদে গেলে কি আপনার মনে হয় তারা ঋণ পরিশোধ করবে? বরং তারা আবারও ঋণ নেবে এবং টাকা লুট করবে। এরা পুনরায় বিদেশে টাকা পাচার করবে।’
বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে নাহিদ বলেন, ‘আমরা শুনেছি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। আমরা চাই, কার্ড দেওয়া হোক, তবে জনগণ সুবিধা পাক।’
নাহিদ প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড জনগণ পর্যন্ত পৌঁছাবে তো? ২০০০ টাকার কার্ড নিতে ১০০০ টাকার ঘুষ দেওয়া লাগবে না তো? যদি ঘুষ, চাঁদাবাজি নির্মূল না হয়, এই সকল সুযোগ-সুবিধা কি জনগণ পর্যন্ত পৌঁছাবে?’
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘বলা হচ্ছে, বস্তিবাসীকে ফ্ল্যাট দেওয়া হবে। বস্তিবাসী ফ্ল্যাট চায় নাই আপনাদের কাছে। বস্তিবাসী চায় নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা। বস্তিবাসী চায় মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রথম কথা ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন সুষ্ঠু হতে হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া ছাড়া এর কোনো বিকল্প নেই। অন্য কোনো প্ল্যান কাজে দেবে না।
নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ আচরণ করতে হবে। উভয় দলের জন্য উভয় জোটের জন্য একই রকম আচরণবিধি থাকতে হবে। কোনো ধরনের বৈষম্য মেনে নেওয়া হবে না। নির্বাচন কমিশনকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, আমরা এখনো মুখে বলে যাচ্ছি, আমরা এখনো মাঠে নামি নাই। কারণ, আমরা মাঠে নামব নির্বাচনের জন্য। আমাদের আন্দোলনের দিকে নামতে বাধ্য করবেন না।’
গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পরে যে আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছিলাম, আমরা অনেকাংশে ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের অনেক অসমাপ্ত কাজ রয়েছে। এবারের নির্বাচনে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য বিপুল ভোটে জয় লাভ করবে। আমরা গণ-অভ্যুত্থানের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করব ঐক্যবদ্ধভাবে।’