নরসিংদী-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ও এনসিপি নেতা গোলাম সারোয়ার (সারোয়ার তুষার) কদিন ধরে অভিযোগ করে এসেছেন তাঁর আসনে জামায়াতের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা নিয়ে নির্বাচনে নামা প্রার্থী আমজাদ হোসাইনকে নিয়ে। তাঁর অভিযোগ, শেষ পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করা আমজাদ হোসাইন জোটের সিদ্ধান্ত মানছেন না। সারোয়ারের শাপলা কলির হয়ে প্রচারণা চালানোর কথা থাকলেও আমজাদ হোসাইন এখনো দাঁড়িপাল্লা নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে বারবারে অভিযোগ করে এসেছেন গোলাম সারোয়ার।
এর মধ্যে আজ নির্বাচনের আগের দিন ফেসবুকে দুই পোস্টে আরেকবার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আমজাদ হোসাইনের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন সারোয়ার তুষার। লিখেছেন, ‘আল্লাহ, তোমার কাছে ইনসাফ চাই।’
আমজাদ হোসাইনের কর্মকাণ্ড নিয়ে তিনি অভিযোগ করেও কোনো সুফল পাননি জানিয়ে ফেসবুক পোস্টে সারোয়ার তুষার লিখেছেন, ‘আমার পুরো নির্বাচনী আসনের বিভিন্ন জায়গা থেকে আমাকে ফোনে, টেক্সটে জানানো হচ্ছে, প্রায় সব জায়গায় কিছু লোক দাঁড়িপাল্লার ভোট চাচ্ছে। এমন কোনো জায়গা নাই যেখানে আমি এই তথ্য জানাই নাই। আজকে দিনভর জানিয়েছি, কিন্তু কাজ হচ্ছে না। আমজাদ ভাই চাইলে এই গোপন ভোট চাওয়া থামাতে পারতেন। তিনি থামালেন না। আফসোস! আল্লাহ, তোমার কাছে ইনসাফ চাই!’
এর কয়েক ঘণ্টা আগেও এক পোস্টে সারোয়ার তুষার লিখেছেন, ‘গজারিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় একদল লোক দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাচ্ছে এবং প্রচার করছে, আমি নাকি অন্য একজনকে সমর্থন দিয়ে ভোট থেকে সরে গেছি। নরসিংদী-২-এর সকল ভোটারের উদ্দেশে জানাতে চাই, এটি একটি ডাহা মিথ্যা প্রচার। কারা এর সাথে জড়িত, তা দ্রুত খুঁজে বের করা হবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। ১১ দলীয় জোটের একমাত্র বৈধ মার্কা শাপলা কলি। এগারো দলের পক্ষে অন্য কোনো মার্কায় ভোট চাইলে বুঝতে হবে, তারা অন্য দলের চর।’
নির্বাচন কমিশনের অ্যাপের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২ লাখ ৮৪ হাজার ভোটারের নরসিংদী-২ আসনে সারোয়ার তুষার ও আমজাদ হোসাইনের বাইরে প্রার্থীদের মধ্যে আছেন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ড. আবদুল মঈন খান, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে এ এন এম রফিকুল আলম সেলিম, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ দলের আপেল প্রতীকে মোহাম্মদ ইব্রাহীম ও ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ দলের চেয়ার প্রতীকে আসিফ ইকবাল।