বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাজনীতিকে তিনি কখনো অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেননি, বরং পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে রাজনীতি করার খরচ জুগিয়েছেন। নিজের সততা ও ত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাজনীতি করে ব্যবসা করি না। বাপের জমিজমা, বাড়িঘর বিক্রি করে রাজনীতি করছি। এটা আপনারা ভালো করেই জানেন।’
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঠাকুরগাঁও সদরের গড়েয়া ইউনিয়নের চন্ডিপুর এলাকায় এক নির্বাচনী জনসভায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতেই আবেগপ্রবণ হয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জমিজমাগুলো ছিল আমার বাবা চখা মিয়ার (মির্জা রুহুল আমিন)। অর্ধেক জমির বেশি শেষ, বেচে দিয়েছি। এমনকি বাড়ির সামনের জমিটাও বিক্রি করে দিতে হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজে কখনো দুর্নীতির মধ্যে যাইনি। রাজনীতি ব্যবহার করে কখনো অর্থ উপার্জন করিনি। আমার স্ত্রী ও সন্তানেরা অত্যন্ত কষ্ট করে লেখাপড়া করেছে, সংসার চালিয়েছে।’
নিজের জীবনযাত্রার সাদামাটা চিত্র তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘ঢাকায় আমি যে গাড়িতে চড়ি, সেটি ২০ বছর আগের পুরোনো। এখন পর্যন্ত সেই গাড়িটা আমি বদলাতে পারিনি।’ কাজের সুযোগ ও আত্মনির্ভরশীলতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো দয়া বা ভিক্ষার ওপর নির্ভর করে বাঁচতে চাই না।’
বিগত দেড় দশকের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘১৫ বছর ধরে আমরা কোনো কথা বলতে পারিনি। আমাদের শুধু পিটিয়েছে, মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে অস্থির করে রেখেছে। সেই দুঃসময় আমরা পার করে এসেছি। এখন সময় হয়েছে ঘুরে দাঁড়ানোর।’
সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা কাজ করে বাঁচতে চাই। আর এই কাজের যোগ্য হয়ে উঠতে আমাদের প্রশিক্ষণ নিতে হবে।’
সভায় স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মির্জা ফখরুল আসন্ন নির্বাচনে জনগণের সমর্থন ও দোয়া চেয়ে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।