জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছেন। এই ইশতেহারে তিনি সুশাসন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতে তাঁর এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে ডিজিটাল অভিযোগ বক্স স্থাপনের অঙ্গীকার করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ২৪ ঘণ্টা গোপন হটলাইন চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ডিজিটাল অভিযোগ বক্স ও হটলাইনে নাগরিকেরা পরিচয় গোপন রেখে সরাসরি চাঁদাবাজি বা অন্যায়ের প্রমাণ দিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। প্রতি মাসে প্রতিটি ওয়ার্ডে এলাকার বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে নাগরিক সভা আয়োজনেরও অঙ্গীকার করেছেন এনসিপির প্রধান।
আজ মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নির্বাচনী ইশতেহারে এসব কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।
ইশতেহারে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্য হিসেবে সিটি করপোরেশন ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার মাধ্যমে নাহিদ ইসলাম ঢাকার পূর্বাংশকে বর্তমান বিশ্বের উপযোগী স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ, আরামদায়ক এবং নাগরিক সুবিধায় ভরপুর একটি আবাসিক এলাকা এবং ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলতে চান।
ঢাকা-১১ আসনের মধ্যে রয়েছে বাড্ডা, মেরুল বাড্ডা, গুলশান (আংশিক), রামপুরা (আংশিক), বনশ্রী, উলন, আফতাবনগর, সাতারকুল, বেরাইদ, ভাটারা ও ডুমনি। এসব এলাকার দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা নিরসনে কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে নাহিদ বলেন, তাঁদের লক্ষ্য কেবল উন্নয়ন নয়, বরং একটি সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ নাগরিক জীবন নিশ্চিত করা।
ইশতেহারে বলা হয়েছে, বাড্ডা ও ভাটারা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট সক্রিয়। ফুটপাতে দোকান বসানো, ভবন নির্মাণ কিংবা অটোরিকশা চালাতে নিয়মিত চাঁদা দিতে হয়। এই সিন্ডিকেটের কারণে দ্রব্যমূল্য বাড়ে এবং সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়ে। ফুটপাত, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতকে রাজনৈতিক চাঁদাবাজমুক্ত করা হবে। এ জন্য প্রতিটি বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিয়ে সরাসরি তদারকি কমিটি গঠনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন নাহিদ।
নাহিদ ইসলাম মনে করেন, নাগরিক নিরাপত্তার বড় সমস্যা কিশোর গ্যাং ও মাদক। সন্ধ্যার পর অনেক অলিগলি মাদকসেবীদের দখলে চলে যায়। এতে নারী ও সাধারণ মানুষের চলাচল অনিরাপদ হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিশোর গ্যাং ও মাদকের আস্তানাগুলো চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে ‘নাগরিক সুরক্ষা কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে।
ইশতেহারে শ্রমিক ও নারী নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। বাড্ডা, রামপুরা ও ভাটারা এলাকায় লক্ষাধিক পোশাকশ্রমিক ও কর্মজীবী নারী বসবাস করলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি বলে দাবি নাহিদ ইসলামের। গভীর রাতে ডিউটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে শ্রমিকদের হয়রানির শিকার হওয়া, গণপরিবহনে নারীদের আসনসংকট এবং রাস্তায় বখাটেদের উৎপাতকে নিত্যদিনের বাস্তবতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এসব সমস্যার সমাধানে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা ও কর্মজীবী মায়েদের শিশুদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
এ ছাড়া প্রগতি সরণির যানজট, ডিআইটি প্রজেক্ট, মেরুল বাড্ডা ও ভাটারা এলাকায় জলাবদ্ধতাসহ তাঁর এলাকার অবকাঠামোগত সমস্যা নিরসনে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন নাহিদ ইসলাম।