কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বলেছেন, ‘আপনাদের দোয়ায় আমি বেঁচে এসেছি। এই বয়সে হয়তো জীবনে আর ভোট চাইতে পারব না। জীবনের শেষ ভোট আপনাদের কাছে চাইছি।’
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ইটনা সদরের মিনি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। দুপুর থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের ব্যানার-ফেস্টুন হাতে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা সমাবেশে যোগ দেন। এ সময় তাঁরা ‘ফজলু ভাই ফজলু ভাই, এমপি পদে তোমায় চাই’; ভোট দিব কিসে, ধানের শীষে’সহ নানা স্লোগান দেন।
ফজলুর রহমান বলেন, ‘চক্রান্ত বড় কঠিন ও গভীরে। সেই চক্রান্ত যে-ই করুক, কেউ যদি ভোট লুট করতে আসে, আপনারা ছেড়ে দেবেন না। প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছ থেকে ফলাফল নিয়ে মিছিল করে বাড়িতে আসবেন। যদি কেউ বলে, বাড়িতে চলে যাও, ভোট গণনা হবে, দুই দিন পরে রেজাল্ট; এসব কথা শুনতে যাবেন না। যা করার প্রয়োজন তা-ই করবেন। আমি ফজলুর রহমান জীবন দিয়ে দেব। কাউকে ভয় পাইয়েন না। কয়টা জামায়াতে ইসলামী আছে, গন্ডায় গন্ডায় গুনলে তিন গন্ডা হয় না একটা ইউনিয়নে।’
ফজলুর রহমান আরও বলেন, ‘আমি শুরু থেকেই বলে আসছি, জামায়াতে ইসলামী মোনাফেক। প্রথমে আমার দল (বিএনপি) বুঝে না বুঝে আমাকে শাস্তি দিলেও এখন বুঝতে পারছে। এরা ইসলামকে বিশ্বাস করে না। জামায়াত হলো, এ দেশের শত্রু। এরা বাংলাদেশে বিশ্বাস করে না। এদের কোনো ইমান নাই। এরা পারে না, এমন কোনো খারাপ কাজ নাই। আমি আজকে বলে গেলাম, এই জামায়াতকে যদি থামাইতে হয়, তাদের অপকর্ম থেকে যদি তাদেরকে আস্তাকুঁড়ের ড্রেনে পাঠাইতে হয়, তাহলে মুক্তিযুদ্ধের সমস্ত শক্তিকে এক হইতে হবে।’
আগামী ১২ তারিখ নির্বাচনে তাঁকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমি ফজলুর রহমান আপনাদের সন্তান। এটাই আমার শেষ নির্বাচন। জীবনে হয়তো আর ভোট চাইতে আসব না। আমি আপনাদের পাশে ছিলাম, পাশে থাকব। জীবনের শেষ সময়ে আপনারা আমার পাশে থাকবেন।’
সবার কাছে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রত্যাশা করে ফজলুর রহমান বলেন, ‘যে কথাটা বাংলাদেশে সাহস করে কেউ বলে না, সেই কথাটা আমি বলব। সংসদে ৩০০ এমপির মধ্যে আমি বাতি হয়ে জ্বলব। কাজেই ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের মানুষেরা আমাকে ভোট দিলে আপনারা গৌরবান্বিত হবেন।’
ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. মনির উদ্দিনের সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, কিশোরগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রতন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুজ্জামান ঠাকুর স্বপন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মো. পলাশ রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক তরিকুল ইসলাম জুয়েল প্রমুখ।