হোম > রাজনীতি

আল্লাহ ভালো জানেন, একাত্তরে কার কী ভূমিকা ছিল: সংসদে জামায়াত আমির

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। ছবি: ভিডিও থেকে

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আল্লাহ ভালো জানেন, একাত্তর সালের ওই চরম সময়ে কার কী ভূমিকা ছিল। আল্লাহ তাআলা পূর্ণাঙ্গ একমাত্র সাক্ষী। বাকি আমরা যারা আছি, তারা আংশিক সাক্ষী।’

আজ বৃহস্পতিবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল বিবেচনার জন্য উত্থাপন করেন। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে আলোচনার জন্য ফ্লোর দেন স্পিকার।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা চেয়েছিলেন দেশটা মানবিক হবে এবং সমাজের সর্বক্ষেত্রে ন্যায়বিচার সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু স্বাধীনতার পরে হয়েছিল তার পুরাটাই উল্টা। জনগণের রায়কে সম্মান দেখাতে ব্যর্থ ও অস্বীকার করার কারণে যে যুদ্ধটি (মুক্তিযুদ্ধ) অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। কিন্তু বেদনার সঙ্গে লক্ষ করা গেল, দেশের (স্বাধীনতার পর) শাসকেরা সেটা ভুলে গেলেন। একপর্যায়ে তাঁরা বহুদলীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করলেন।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘১৯৭৩ সালে এই সংসদে মাত্র ৭ মিনিট আলোচনা করে দেশের সবগুলো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এমনকি আওয়ামী লীগ এতটাই বেপরোয়া হয়েছিল, যে আওয়ামী লীগ নামে তারা নির্বাচন করে ১৯৭০ ও ৭৩ সালে ক্ষমতায় এসেছিল, তারা স্বয়ং সে আওয়ামী লীগকেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করল। ৭৫-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে এসেছে এবং এই সংসদ সে ধারাবাহিকতার অংশ।’

জামুকা আইনের সংজ্ঞার বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এ জিনিসটা স্বাধীনতার পরে তখনকার সরকার আনেন নাই। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সরকার আনেন নাই। এ জিনিসটা সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন ফ্যাসিস্টের বিকৃত প্রতীক শেখ হাসিনা। পরবর্তী পর্যায়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ধারাবাহিকতা রেখেছে সামান্য পরিবর্তন করে। সেখানে তৎকালীন তিনটা সংগঠনের নাম নেওয়া হয়েছে—তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টি। পাক বাহিনী ও তার সহায়ক শক্তির সঙ্গে তিনটা রাজনৈতিক দলের নাম এসেছে। বর্তমান উপস্থাপনায় তৎকালীন সংগঠনের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ ভালো জানেন, একাত্তর সালের সেই চরম সময়ে কার কী ভূমিকা ছিল। আল্লাহই পূর্ণাঙ্গ একমাত্র সাক্ষী। বাকি আমরা যারা আছি, তারা আংশিক সাক্ষী।’

জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশ রাজনীতির সুস্থ ধারায় চলুক জনগণের প্রতি দায়-দরদ নিয়ে, দেশের প্রতি ভালোবাসা...দেশের প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল কার্যক্রম পরিচালনা করবে।’

১৯৭৯ সালে জারি করা রাজনৈতিক দল অধ্যাদেশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পুনর্জন্ম হয় উল্লেখ করে বিরোধী দলের নেতা বলেন, ‘সে সময় থাকা সব রাজনৈতিক দল তাদের অধিকার ফিরে পায়। আমরাও (জামায়াতে ইসলামী) সে সময় ফিরে পেয়েছি। সেই দায়-দরদ নিয়ে ১৯৭৯ সাল থেকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার চেষ্টা করছি। আগামী দিনগুলোতেও আর জাতিতে বিভক্ত নয়, বরং ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো, সম্মানের জাতি গঠন করতে পারি; সব দলের এটাই অঙ্গীকার। আমরা জাতিকে আর বিভক্ত করতে চাচ্ছি না।’

পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বিল সম্পর্কে এনসিপির কোনো আপত্তি নেই বলে সংসদের নজরে আনার জন্য সংসদকে অনুরোধ করেছেন। পরে তিনি বিলটি ভোটে দেন। এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বক্তব্য দিতে চাইলে স্পিকার বলেন, ‘বিরোধী দলের নেতা তো কোনো আপত্তি করেন নাই। তবু আপনি কিছু বলতে চাইলে বলতে পারেন।’ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার উত্থাপিত আকারে বিলটি তুলবার জন্য অনুরোধ করছি।’ পরে স্পিকার অনুমতি দেন।

আমার রায় অবৈধ হলে অন্তর্বর্তী সরকারের সবকিছু অবৈধ ঘোষণা করতে হবে: ইশরাক হোসেন

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিয়েছিলেন কি না, প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন গোলাম পরওয়ারের

ওয়াকআউটের পর ফের সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দল

‘গণবিরোধী’ বিল পাসের অভিযোগ করে বিরোধী দলের ওয়াকআউট

বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ জামায়াতের

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে লেখালেখি করলে আবারও গ্রেপ্তার শুরু হচ্ছে: আসিফ মাহমুদ

২৮ বিচারককে শোকজ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কোথায়—প্রশ্ন হাসনাতের

সংসদে তেল থাকলে কী হবে, পাম্পে পাই না: এনসিপির এমপি আল আমিন

ট্রাইব্যুনাল নিয়ে ফেসবুক পোস্ট সাবেক ছাত্রলীগ নেতার, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে খোঁড়া যুক্তি দেওয়া হচ্ছে: বদিউল আলম