হোম > রাজনীতি

কিছু আসনে রেজাল্ট শিট পরিবর্তন ও ঘষামাজার অভিযোগ জামায়াতের

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ছবি: আজকের পত্রিকা

নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসাররা নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকভাবে বিলম্ব করছেন বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

তিনি বলেন, ঢাকা-১৭ আসনসহ বেশকিছু আসনের কিছু জায়গায় রিটার্নিং অফিসারদের সই করা শিট পরিবর্তন এবং ওভাররাইটিংয়ের মাধ্যমে ভোটের সংখ্যা কমানো হয়েছে। একটি বিশেষ দলের প্রধানকে সুবিধা দেওয়ার জন্য ভোট কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে মনে হচ্ছে, কোনো একটা বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য তারা এই কাজটি করছে। আমরা আগেও বলেছি, আমরা ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করব না। দেশবাসীকে সাথে নিয়ে আমরা এই চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ করব। আমরা বাধ্য হবো এই ধরনের চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্র যারা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে তাদের জনগণের মুখোমুখি করার।

আজ শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে জুবায়ের এসব কথা বলেন।

জামায়াত নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আজকে বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন ছিল। গতকালকে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই গণভোটের ফলাফল বিকেল ৫টা থেকে গণনা আরম্ভ করা হয়েছে। এখন রাত প্রায় ৪টা বাজে। আমরা খুব আশ্চর্য লক্ষ্য করছি, এই গণনা কার্যক্রমের সাথে নির্বাচন কমিশনের যারা জড়িত আছেন রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং ইসির সদস্য যারা আছেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রে তারা অস্বাভাবিকভাবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিলম্ব করছেন। আমাদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের আসনগুলোতে এজেন্ট যারা ছিলেন, সে সমস্ত এজেন্টদের কাছ থেকে আমরা যে শিটটা পেয়েছি সেই শিট অনুযায়ী এটা ৮টা থেকে ৯টার মধ্যেই রেজাল্ট বা তার ফলাফল ঘোষণা করার কথা। কিন্তু সেটা এখনো হয় নাই।

তিনি আরও বলেন, কোনো কোনো আসনে এটা হয়েছে। যে আসনে, যে শিটে স্বাক্ষর দিয়েছেন প্রথম, সেখানকার রিটার্নিং অফিসার বা তার কর্মকর্তারা কিছু সময় পরে সেটা চেঞ্জ করেছেন। ঢাকা-১৭ আসনে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। কমপক্ষে আটটি শিটে এই ধরনের তারা পরিবর্তন করেছেন। ওভাররাইটিং করেছেন। কেন চেঞ্জ করেছেন? বলেছেন যে একটু ভুল হয়ে গেছে এটা সংশোধন করতে হবে। বিভিন্ন সেন্টারগুলোর রেজাল্টশিট সেটা যোগ করে যেটা দাঁড়িয়েছিল এটা কাটাকাটির আগে, ওভারেটিং এর আগে পরে যেটা তারা ওভারাইটিং করেছেন সেখানে ৫ হাজার ভোট কমানো হয়েছে।

একটি বিশেষ দলের প্রধানকে সুবিধা দেওয়ার জন্য গণনা বিলম্ব, ওভারাইটিং বা জামায়াতের ভোট কমানো হয়েছে বলে অভিযোগ করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, একটি বিশেষ দলের প্রধানকে সুবিধা দেওয়ার জন্য তারা এ কাজটি করা হয়েছে। আমাদের যারা সেখানে ছিলেন এজেন্ট তাদের কোনো কথা বলতে দেওয়া হয় নাই। তারা ইতিমধ্যেই প্রেস কনফারেন্স করেছেন, প্রেসের সাথে কথা বলেছেন। আমরা বলেছি যে আপনারা এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। ঢাকার প্রায় সবগুলো আসনে আমাদের যারা আছেন অর্থাৎ জামায়াতে ইসলামী এবং আমাদের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সবার রেজাল্টটা দিতে এই ধরনের গড়িমশি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, একটি বিশেষ দলকে সুবিধা দেওয়ার জন্যে নির্বাচন কমিশন এবং তার সাথে যারা সম্পৃক্ত আছেন তারা এটার সাথে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জড়িত আছে। একই অবস্থা আমাদের ১১ দলের অন্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ যারা আছেন তাদের প্রত্যেকের আসনে।

সারাদেশের আসনগুলোতে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন বলে উল্লেখ করে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, সারাদেশের আসনগুলো নিয়ে আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি, পর্যালোচনা করেছি। একই ধরনের চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্রের গন্ধ আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমরা মনে করি, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এই জাতি সংগ্রাম করেছে, রক্ত দিয়েছে, ১৪০০ শহীদ হয়েছেন। আরো অনেকেই এর আগে শহীদ হয়েছেন। হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন। আমরা রক্ত দিয়েছি, আমরা আত্মউৎসর্গ করেছি এই জন্য নয় যে আরেকটি নতুন ফ্যাসিবাদ তৈরি হবে।

জামায়াত নেতা বলেন, আমাদের কাছে মনে হচ্ছে যে তারা বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে এই সমস্ত কাজগুলো করছে। আমরা এখন ইসির যারা আছে তাদের সাথে কথা বলব। তাদের বক্তব্য শুনব এবং আমাদের পক্ষ থেকে পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি কী দিতে হয়, আমরা জানাব। আমাদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সাথে আমরা আলোচনা করেছি। আমরা আবারও আলোচনা করব। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তীতে আপনাদেরকে জানাব।

সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেকগুলো আসনে এই অবস্থা হচ্ছে। ঢাকার সবগুলো আসন নিয়ে এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে। যে সমস্ত আসন থেকে আসনের সঙ্গে যারা দায়িত্ব আছেন, আসন পরিচালক বা সচিব বা প্রার্থী তারা এ সমস্ত বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তারা অলরেডি প্রস্তুতি নিয়েছেন। এটা খুবই স্পষ্টতদৃশ্য হচ্ছে যে কোনো অবস্থায় এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অপ্রত্যাশিত দেরি করার কোনো কারণ নেই। বিশেষ কোনো কারণে বিশেষ কোনো উদ্দেশ্যে অথবা আমাদের প্রতিপক্ষ যারা তাদের কিছু বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য বা অন্যায়ভাবে তাদেরকে পাস করানো, বিজয়ী দেখানোর জন্যই এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অপ্রত্যাশিতদের করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, জনগণের মতামতকে যদি স্বৈরাচারী কায়দায় অন্যায়ভাবে এইভাবে কেড়ে নেওয়ার অপপ্রয়াস চালানো হয়, তাইলে দেশবাসী সেটা মেনে নেবেন না। আমরা দেশবাসীকে সাথে নিয়ে এটাকে প্রতিরোধ করে তুলব। দেশবাসী এটাকে প্রতিরোধ করবে, ইনশাল্লাহ।

নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করবেন কিনা সাংবাদিক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তাদের ব্যাখ্যা আমরা জানব। আমরা তাদের সঙ্গে ফোনেও কথা বলেছি, এখন ফিজিক্যালি আসছি। আমরা তাদের বক্তব্য শুনব এবং এটার ব্যাপারে আমরা কোনো ধরনের ছাড় দেব না। জনগণের এই মতামতকে বা জনগণের দেওয়া এই ভোটাধিকারকে চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ম্যানিপুলেশন করার চেষ্টা করা হয়, তাইলে অবশ্যই আমরা আমাদের কর্মসূচি এবং সেটাকে বাস্তবায়নের জন্য যে ধরনের কর্মসূচি সেটা করব। আমরা প্রয়োজনে আন্দোলনে যাচ্ছি এবং সেটা কঠোর আন্দোলনে যাব। আবারো স্বৈরাচার বা স্বৈরাচারের দৃশ্যটা ফিরে আসুক নির্বাচন নিয়ে, এটা চাই না।

তিনি বলেন, ‘এই জাতির যে ভয়ঙ্কর ড্রামা ২০১৪, ১৮ এবং ২০২৪ এ যেটা আমরা দেখেছি এবং যারা এই ধরনের নির্বাচন করেছিলেন, তারা এখন কোথায় আছেন আপনারা জানেন। আমরা আশা করব না, প্রত্যাশা করব না যে এই নির্বাচন কমিশনকেও এই ধরনের পরিণতি যাতে তাদেরকে ভোগ করতে না হয়।’

ঢাকা-৪ আসনে জয়ী জামায়াত নেতা জয়নুল আবেদীন

ঢাকা-১৭ আসনেও বিজয়ী তারেক রহমান

অবশেষে ঢাকা-৮ আসনের ফল প্রকাশ, জয়ী মির্জা আব্বাস

ভোটের ফলাফল টেম্পারিংয়ের চেষ্টা হচ্ছে: এনসিপি

দেশবাসীকে বিএনপির শুভেচ্ছা

বিজয় মিছিল না করার নির্দেশ তারেক রহমানের

আমজাদের এই গাদ্দারি বাংলাদেশ মনে রাখবে: সারওয়ার তুষার

আমার নির্বাচন নিয়ে অনেক চক্রান্ত হচ্ছে: মির্জা আব্বাস

রাত ২টায় জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে এনসিপি

কিছু আসনে ফল ঘোষণায় বিলম্ব নিয়ে জামায়াত আমিরের প্রশ্ন, ইতিবাচক রাজনীতির আশ্বাস