বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
আজ শুক্রবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। দি ফোরাম অব ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বিগত ২০১৪, ১৮ ও ২৪ সালে দেশে নির্বাচন হয়নি উল্লেখ করে মুজিবুর রহমান বলেন, ‘যে ফ্যাসিস্ট সরকার এগুলো করেছিল, যাদের ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে ছাত্র-জনতা আন্দোলন করে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে, সেই দলকে আবার বাংলাদেশে পুনর্বাসিত করা—এটা আন্দোলনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল বলে আমরা মনে করি। অতএব, গোটা জাতির স্পন্দন বুঝে দেশটাকে পরিচালনা করা উচিত বলে আমরা মনে করছি।’
উপস্থিত শ্রোতাদের উদ্দেশে জামায়াতের এই নায়েবে আমির বলেন, ‘আপনারা অনেক আশা করেছিলেন—হয়তোবা এবার সকল দলের দেখা শেষ, এবার ইসলামের বাংলাদেশ—সেই স্লোগান আমাদের ছিল এবং লোকেরা বলে যে, হলোটা কী? সব দেখলাম যে এদিকেই আসছে, কিন্তু রেজাল্টের সময়, কাউন্টিং করার সময় দুই-তিন ঘণ্টা সময় অন্ধকারে রেখে কী যে ঘটে গেল বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে! দেখা গেল যে, সব ওলট-পালট হয়ে গেল।’
নির্বাচন-পরবর্তীতে তিন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে জামায়াতের এ নেতা বলেন, ‘প্রথমত আদালতের শরণাপন্ন হওয়া। আরেকটা হলো যে, আমরা সংসদে এটাকে তুলে ধরে এটার ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্তে আসা। আর তিন নম্বর হচ্ছে, মাঠে-ময়দানে এ দাবি উচ্চারণ করে সরকারকে এটাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে বাধ্য করা। এই তিনটা দাবির মধ্যেই আমরা আমাদের কর্মসূচি নিয়ে যাব ইনশা আল্লাহ।’
সম্প্রতি ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে মুজিবুর রহমান বলেন, ‘সাংবিধানিক একটা কাঠামো এবং নীতি দেওয়া আছে, যেকোনো জায়গা যদি শাসন করতে হয়, ওটাকে চালাইতে হয় জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে, সেগুলা চালাতে হবে। আমাদের মহানগরীগুলোতে হঠাৎ করে কি নিয়োগ করা হয়েছে? এগুলো করার কথা ছিল ভোটের মাধ্যমে। যারা ভোটকে বাদ দিয়া নিজের মতো করে কাজ করতে চায়, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে বলে মনে হয় না। সকল পর্যায়ের কাঠামোগুলোকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে শাসন করতে হবে। এককভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বৈরাচারী আচরণ প্রকাশ করলে পরে জাতি অতীতের মতো আবার হয়তো সংগ্রামে নামতে বাধ্য হয়ে যাবে।’
ইফতার মাহফিলে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, আয়োজক সংগঠনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, জামায়াতের মজলিসে শুরার সদস্য মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ বাশার প্রমুখ।