প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট শ্রমজীবী মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ ও জনস্বার্থবিরোধী বলে মনে করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক সংগঠন ‘জাতীয় শ্রমিক শক্তি’। অবিলম্বে শ্রমিকবান্ধব নীতি প্রণয়ন ও শ্রমজীবীদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শ্রমিকের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক সেমিনারে এ সব কথা তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা।
সেমিনারে বিলসের (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বাজেট গত অর্থবছরের তুলনায় কমানো হয়েছে। যা দেশের বিপুল শ্রমশক্তির উন্নয়ন ও কল্যাণের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বাজেটকে ‘হাওয়াই মিঠাইয়ের’ সঙ্গে তুলনা করে অর্থমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের বাজেট প্রণয়নের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, সেই কুখ্যাত আবুল বারকাতের মৌলবাদের অর্থনীতির তত্ত্ব বিএনপির ওপর ভর করেছে।
বিএনপি ও অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সমালোচনা করে সারোয়ার তুষার বলেন, ‘বিশ বছর পর বিএনপি ক্ষমতায় আসলো। এই ২০ বছরের মধ্যে বর্তমান সময়কে, বর্তমানে বাংলাদেশের সংকট এবং বৈশ্বিক সংকট পুরো জিনিসটাকে বুঝে যুগোপযোগী বাজেট কিংবা অর্থনীতির নীতি প্রণয়ন করতে পারবে, এ রকম একজন ব্যক্তিও বিএনপিতে নাই।’
সারোয়ার তুষার আরও বলেন, তাদের (বিএনপি) অর্থমন্ত্রী করতে হয়েছে জনাব আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে, যিনি ২০০৬ সালের আগেই বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন। তখন তাঁকে বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে পদত্যাগ করতে হয়েছিল সিন্ডিকেটের সঙ্গে কারসাজি করে পণ্যের দাম বাড়ানোর কারণে। সেই ব্যক্তিকে এখন তাঁরা অর্থমন্ত্রী করেছেন। ফলে যে রকম আপনারা (শ্রমিকেরা) চাচ্ছেন, সে রকম বাজেট হবে না।
শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ফকির এবং সদস্যসচিব ঋআজ মোর্শেদের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন— বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাকিল আখতার চৌধুরী, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এ এ এম ফয়েজ হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক বাদল খান প্রমুখ।