হোম > রাজনীতি

কূটনীতিকদের কাছে আগামীর পরিকল্পনা তুলে ধরল বিএনপি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: আজকের পত্রিকা

দলের ঘোষিত আটটি অগ্রাধিকারভিত্তিক সামাজিক নীতির কাঠামো কূটনৈতিক সম্প্রদায় ও উন্নয়ন সহযোগীদের জানিয়েছে বিএনপি। দলটি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, কর্মসংস্থান ও মসজিদ-মাদ্রাসাভিত্তিক ধর্মীয় নেতাদের জনকল্যাণমুখী কর্মকাণ্ড কীভাবে এগিয়ে নেবে, তা বিশদভাবে তাঁদের সামনে উপস্থাপন করেছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে ‘পলিসি ডিসেমিনেশন অন প্রায়োরিটি সোশ্যাল পলিসিজ’ শীর্ষক আলোচনায় আটটি খাতের ওপর আলোকপাত করে বিএনপি। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, পাকিস্তান, রাশিয়াসহ ৩০টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ২০০৯ সালের পর ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে ‘মাফিয়া অর্থনীতি’তে পরিণত করেছে। দেশকে একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর স্বর্গরাজ্যে পরিণত করা হয়েছিল আর ব্যাংকগুলোকে পরিকল্পিতভাবে লুট করা হয়েছে। ব্যাংকিং খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যেখানে কিছু ব্যক্তি বিশাল সম্পদের মালিক হয়েছেন। দেশের অর্থনীতিকে মাফিয়া অর্থনীতিতে রূপান্তর করা হয়েছিল। তিনি বলেন, গত ১৫ বছরের তথাকথিত উন্নয়ন ছিল জবাবদিহিহীনতা ও দুর্নীতিতে ভরা। দেশকে নজিরবিহীন ভোট কারচুপির অবস্থায় ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে ভোটারেরা কার্যত নির্বাচনপ্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়েছিলেন। এর পরিণতিতে জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ঘটে, যা নতুন আশা ও সুযোগ তৈরি করেছে। এ সময়ে দেশে উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থান ও অর্থবহ বিনিয়োগ হয়নি।

মির্জা ফখরুল বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণার পর থেকেই বিএনপি জনগণমুখী ও উন্নয়নমুখী দল হিসেবে কাজ করে আসছে এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। আজ চ্যালেঞ্জ অনেক, তবে বিএনপি ইতিমধ্যে এমন নীতিমালা প্রস্তুত করেছে, যা বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে সভ্য ও টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে। এই নীতিমালা টেকসই উন্নয়নের পথ তৈরি করবে এবং নিম্ন আয়ের মানুষকে ক্ষমতায়িত করবে। অর্থনৈতিক গণতন্ত্রের ধারণার ভিত্তিতে অধিকসংখ্যক মানুষ উন্নয়নপ্রক্রিয়ায় অংশ নেবে।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, অর্থনীতি হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, অংশগ্রহণমূলক ও প্রবৃদ্ধিমুখী এবং সমাজ গড়ে উঠবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির ওপর, যেখানে মানুষ থাকবে সব সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রস্তাবিত কর্মসূচি উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, চাহিদাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবারবান্ধব নীতিমালা এগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। দূরদর্শী নেতৃত্বের অধীনে নতুন ধারণা, নতুন প্রযুক্তি ও নতুন সুযোগ সৃষ্টির অঙ্গীকার রয়েছে।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার অ্যাজেন্ডার আওতায় সামাজিক নীতিমালার বিস্তারিত কাঠামো তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে বিভাজনমূলক রাজনীতি থেকে ফলাফলভিত্তিক শাসনব্যবস্থার দিকে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয় এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানে আটটি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক মামুন আহমেদ, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সদস্য ড. মাহদী আমিন প্রমুখ।

৩০ আসনে এনসিপির চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা

দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগ করার আবেদন করেই প্রার্থী ২৩

বিএনপিতে বিদ্রোহী অর্ধশতাধিক

ইডেন–বদরুন্নেসা–হোম ইকোনমিকস নিয়ে ‘বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয়’ গড়তে চায় জামায়াত

আমরা ‘না’ ভোট দেব দেশের স্বার্থে, আইনের শাসনের স্বার্থে: জি এম কাদের

কড়াইলবাসীর জন্য উঁচু-উঁচু বড়-বড় বিল্ডিং করে দিতে চাই: তারেক রহমান

নির্বাচন ঠিক করবে, দেশ গণতন্ত্রকামী নাকি উগ্র রাষ্ট্রবিরোধীদের হাতে থাকবে: মির্জা ফখরুল

আমাদের দল থেকে নারী প্রার্থী না থাকলেও জোটে আছে: তাহের

তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত

জামায়াতের পলিসি সামিটে ভারতসহ ৩০ দেশের প্রতিনিধি