আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী দুই দলই পাকিস্তানের পক্ষে ছিল বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম। তিনি বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী দুটো দলই কিন্তু পাকিস্তানের পক্ষে ছিল। শুধু একটা দলকে বললে হবে না। আজকে আওয়ামী লীগ যেমন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিল, আর আরেকটি শক্তি পাকিস্তানকে টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিল। আর এখানে একমাত্র বিএনপি, যারা এই দেশের জন্য লড়াই করেছে।’
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আজ শুক্রবার এক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের আয়োজনে আজ সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেন, ‘দুটো শক্তি মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে সেই সময় অবস্থান নিয়েছিল, তারা এখনো মানসিকভাবে মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকার করতে পারে না। এই দুইটা শক্তির মাঝামাঝি কিন্তু আজকের বিএনপির অবস্থান। বিএনপির অবস্থানটা যে সঠিক সেটা বারবার প্রমাণ হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সূচনা থেকে, মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা থেকে, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই দেশে শুধু মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাই দেননি, তিনি রণাঙ্গনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।’
জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ করে ডিএসসিসির প্রশাসক বলেন, ‘আরেকটি শক্তি হলো, যারা সব সময় মুক্তিযুদ্ধকে বিরোধী করেছে। দুটো দলই কিন্তু পাকিস্তানের পক্ষে ছিল। শুধু একটা দলকে বললে হবে না। আজকে আওয়ামী লীগ যেমন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছে, আর আরেকটি শক্তি পাকিস্তানকে টিকিয়ে রাখতে চেয়েছে। আর এখানে একমাত্র বিএনপি, যারা এই দেশের জন্য লড়াই করেছে। লড়াই-পরবর্তী সময়ে লড়াইয়ের স্বপ্নটাকে বাস্তবায়নের জন্য বিএনপি গঠন করেছেন। কাজেই জনগণকে বুঝতে হবে। জনগণ সেটা বোঝে বলেই বারবার কিন্তু জনগণ যখনই সুযোগ পেয়েছে, তারা বিএনপির পক্ষে রায় দিয়েছে। এটা কিন্তু চিরসত্য কথা। শহীদ জিয়ার পক্ষে রায় দিয়েছে।’
শহীদ জিয়া নিজের বুকের রক্ত দিয়ে প্রমাণ করে গিয়েছেন তিনি একজন সাচ্চা বাংলাদেশি বলে মন্তব্য করেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি বলেন, ‘তিনি দেশটাকে ভালোবেসে যুদ্ধ করেছেন এবং দেশটাকে ভালোবেসে আবার বাংলাদেশকে নির্মাণের জন্য তিনি নিজের রক্ত দিয়ে কারোর কাছে পর্যন্ত আপস করেন নাই। তাঁর পরবর্তী পর্যায়ে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া সেই একই পথ ধরে তিনি বাংলাদেশটাকে স্বাধীন রাখার জন্য চেষ্টা করেছেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্রটাকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছেন। মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।’
আবদুস সালাম আরও বলেন, ‘সেই একই রেশ ধরে কিন্তু যখন আমাদের নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘ বছর তিনি দেশের বাইরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। শত অত্যাচার-নিপীড়ন সহ্য করেও যিনি কখনো আপস করেন নাই। তিনি যখন দেশে ফিরে এসেছেন, এটা কিন্তু ইতিহাস। আওয়ামী লীগসহ অনেকেই এমনকি বর্তমান বিরোধী দল যারা আছে, তারাও বিশ্বাসই করতে পারেন নাই যে আমাদের নেতা তারেক রহমান এই ধরনের জনগণের এত জনপ্রিয়তা নিয়ে দেশে ফিরে আসবেন।’
প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, ‘আজকে দুটি শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে বিএনপি টিকে আছে। টিকে আছে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে, জোরজবরদস্তি করে না। যেহেতু জনগণের কথা বলে বিএনপি, জনগণের অধিকার আদায়ের জন্যই বিএনপি সব সময় সচেষ্ট। সেই কারণে জনগণও কিন্তু বিএনপির পক্ষে আছে।’
প্রথম দিনের পার্লামেন্ট শুরু হলে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত বাজা শুরু হলে, বিরোধী দলের ভূমিকা কী ছিল সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি পার্লামেন্টে জাতীয় সংগীত বাজলে তাদের ভূমিকা। তার মানে মনের দিক থেকে এখনো তারা দেশের স্বাধীনতাকে স্বীকার করতে পারে নাই। এর জন্যই দুইটা শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে বিএনপি টিকে আছে, আবার টিকে থাকবে। এটা পরিষ্কার সত্য কথা যে দুজনের মনেই পাকিস্তান। বিএনপির মনে পাকিস্তান না, বিএনপির মনে সবার আগে বাংলাদেশ।’
আবদুস সালাম আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী তারা দুইটা দলই কিন্তু সেই পাকিস্তানকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছে। আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছে আর জামায়াত পাকিস্তানকে টিকিয়ে রাখতে চেয়েছে। আর বিএনপি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছে, এটাই হলো ইতিহাস।’
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মনি। সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির ব্যাপারী।