নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয়ের আশঙ্কা থেকে একটি দল অপপ্রচার ও ধর্মকে ব্যবহারসহ নানা অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি। দলটি টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টাও করছে বলেও অভিযোগ করেছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘যারা সারাক্ষণ সততা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান এবং ইনসাফের বয়ান তৈরি করেন, তাঁরাই যদি নির্বাচনের মাঠে টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করেন, তাহলে সেটি অত্যন্ত লজ্জাজনক।’
জামায়াত সমর্থক ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবিরের এক পান দোকানিকে টাকা দেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়া প্রসঙ্গ সামনে এনে মাহদী আমিন বলেন, ‘খোদ দলীয় প্রধানের আসন ঢাকা-১৫-তে তাঁর জন্য দাঁড়িপাল্লার ভোট চাইতে দলটির অন্যতম শীর্ষ আইনজীবী নেতা যেভাবে প্রকাশ্যে টাকা দিয়েছেন এবং ভোট কেনার চেষ্টা করেছেন, সেই ভিডিও ইতিমধ্যে দেশব্যাপী ভাইরাল হয়ে তুমুল সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, গত ২২ জানুয়ারি থেকে আজ (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণার নির্ধারিত সময় ছিল। উৎসবমুখর এ সময়ে দেশি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ধারাবাহিক প্রতিবেদন, বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান ও জরিপের ফলাফল, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ও বিপুল উপস্থিতি এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা মিলিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, জনসমর্থনের দিক থেকে বিএনপি সর্বোচ্চ পর্যায়েই রয়েছে।
তিনি বলেন, সারা দেশে বিএনপির পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় অনিবার্য, ইনশা আল্লাহ। এই বাস্তবতা উপলব্ধি করে, একটি নির্দিষ্ট দল ক্রমাগত অপপ্রচার ছড়াচ্ছে, সহিংস রাজনীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে অপব্যবহার করে ভোট চাইছে এবং এমনকি জাল ভোটের প্রস্তুতিও দেখা যাচ্ছে। জনরায়ের শক্তির মুখে দাঁড়িয়ে এ ধরনের অপকৌশলই তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ।
মাহদী আমিন বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে তথাকথিত অবস্থানকে পুঁজি করে যে দলটি নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে, তারা সেই প্রচারণাতেই মানুষকে, এমনকি শিশুদেরও অর্থ দিয়ে প্রলুব্ধ করছেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন। এটি অত্যন্ত পীড়াদায়ক যে স্বয়ং ওই দলীয় প্রধানের আসনেই টাকা দিয়ে ভোট কেনার অপপ্রয়াস চলছে। তাহলে চিন্তা করুন দেশব্যাপী ওই দলটি কী করছে!’
সংবাদ সম্মেলনে সহিংসতার অভিযোগ তুলে মাহদী আমিন বলেন, কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে রাতের আঁধারে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিএনপির নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। বগুড়া-৪ আসনের নন্দীগ্রাম উপজেলার ৪ নম্বর থালতামাঝ গ্রামেও হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে, যা জনমনে চরম ভীতি সৃষ্টি করেছে। তিনি এসব ঘটনায় দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন, রিটার্নিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ দাবি করেন।