রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের ব্যর্থতার কারণে দেশে খুন, ধর্ষণ ও নাগরিক নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের পর জনগণ ভেবেছিল পরিস্থিতির উন্নতি হবে, কিন্তু বাস্তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।
আজ শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম অডিটরিয়ামে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের এনসিপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষক, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার প্রায় দেড় হাজার মানুষ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এনসিপিতে যোগদান করেছেন বলে এনসিপি দাবি করেছে।
আসিফ মাহমুদ বলেন, রাজনীতি শুধু সংখ্যার হিসাব নয়, মানুষের জীবনমান পরিবর্তনের মাধ্যম। ওয়ার্ড, থানা কিংবা মহল্লা পর্যায়ে রাজনীতি করে যদি মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব রাখা না যায়, তাহলে সেই রাজনীতির কোনো অর্থ থাকে না। এনসিপি মহানগরের রাজনীতিকে শুধু ক্ষমতার রাজনীতি হিসেবে নয়, বরং নগর পরিচালনায় নতুন সংস্কৃতি ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনার রাজনীতি হিসেবে দেখে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, ‘মাঝেমধ্যে মনে হয়, তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির ভূমিকায় বেশি আছেন; কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।’
সরকারের উদ্দেশে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বলা হয়েছিল নির্বাচিত সরকার না থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে, কিন্তু নির্বাচনের পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি, বরং আরও খারাপ হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে জনগণ কত দিন সহ্য করবে, জানি না। বিশ্বজুড়ে তরুণ প্রজন্ম রাজনৈতিকভাবে সচেতন হয়ে উঠছে।’
বাংলাদেশের ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে আসিফ বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হলে তরুণেরা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়।
অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা একসময় সহযোদ্ধা ছিলেন, কিন্তু তাঁরা যদি ছাত্রলীগ-যুবলীগের মতো সন্ত্রাসী কায়দায় রাজনৈতিক আন্দোলন দমনের চেষ্টা করেন, তাহলে তাঁদের পরিণতি আরও খারাপ হবে। আগামী দিনের বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে অন্য মত ও দলকে দমন করতে দেওয়া হবে না।
সারজিস আলম বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পরে যদি আমরা পিছিয়ে যাই, কথা বলা বন্ধ করে দিই, তাহলে ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসবে, তারা আরও বড় স্বৈরাচার হয়ে উঠবে। সেই সুযোগ আর কাউকে দেওয়া যাবে না। জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এখনো পূরণ হয়নি। তাই আন্দোলনের লড়াইও শেষ হয়নি। বিএনপি জুলাই সনদ, গণভোট ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্নে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দলটির যুগ্ম সদস্যসচিব শাহরিন ইরা।