ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস ও দখলবাজদের রাজনীতির অবসান ঘটবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর বাড্ডার সাঁতারকুলে নির্বাচনী প্রচারকালে নাহিদ এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘মানুষ ভেবেছিল ৫ আগস্টের মধ্য দিয়ে চাঁদাবাজি, দখলবাজির সংস্কৃতির মৃত্যু ঘটবে। কিন্তু আমরা দেখলাম এগুলো আবার শুরু হয়েছে। আমরা মনে করি, যারা দখলবাজ, চাঁদাবাজদের সমর্থন দিয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি তারা পরাজিত হবে। মানুষ সেটাই চাচ্ছে। ১১ দলের প্রার্থীরা সংস্কার এবং ইনসাফের পক্ষে, সারা দেশে তাদের পক্ষেই জনজোয়ার থাকবে।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, একটি পক্ষ তাঁর কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করছে। তবে এসব অপচেষ্টা সফল হচ্ছে না। তিনি বলেন, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস ও দখলবাজদের শেষদিন হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি।
মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে বলে উল্লেখ করেন নাহিদ। তিনি বলেন, ‘এবার যেহেতু নতুন দল, নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে—সেই জন্য আমরা মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখতে পাচ্ছি। এবারের নির্বাচন ঐতিহাসিক নির্বাচন, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের নির্বাচন। এটা আমরা মানুষকে বোঝাচ্ছি।’
নির্বাচন নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। কিন্তু নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নেই বলে অভিযোগ করেন নাহিদ। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন গণভোটের প্রচারণা করার জন্য আমাকে শোকজ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) দিয়েছিল। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী যখন নিয়ম ছিল না তখন থেকে প্রচারণা করে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘সরাসরি কোনো বাধা না দিলেও সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। অফিস নিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। মানুষ যাতে ভোট কেন্দ্রে আসতে নিরুৎসাহিত হয় সেই জন্য একধরনের ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট কেন্দ্রে আসবে। আমরা আশা করি, প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকবে, নইলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে।’
এদিন রাজধানীর মতিঝিলের এজিবি কলোনি এলাকায় নির্বাচনী প্রচার চালান ঢাকা-৮ আসনে এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় তিনি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি বলে অভিযোগ করেন। বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, একটি দলের বড় বড় অনিয়ম প্রশাসনের চোখে পড়ে না। তবে ছোটখাটো বিষয় নিয়েও অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নাসীরুদ্দীন সবাইকে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার পাশাপাশি সংস্কার প্রশ্নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে দিতে আহ্বান জানান।