জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘সরকারের লোকেরা আগে বলেছে, নির্বাচিত সরকার এলেই বিদেশি বিনিয়োগ হুড়হুড় করে আসা শুরু করবে। কিন্তু আমরা দেখলাম, ড. ইউনূস যতটুকু সক্ষমতা দেখিয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন সম্পর্ক স্থাপন এবং বাংলাদেশে টাকা আনার ক্ষেত্রে, এই সরকার কিন্তু কোনো একটা দেশ থেকে এখন পর্যন্ত দাওয়াত পর্যন্ত পায়নি। আইএমএফের ঋণ তাদের বন্ধ হয়ে গেছে।’
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ‘বৈশ্বিক অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশের বাজেট: কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও সংস্কারে অগ্রাধিকার এবং জনপ্রত্যাশার বৈষম্যহীন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি সংস্কারমুখী, যেটা বিনিয়োগমুখী এবং যেটা কর্মসংস্থানমুখী, বাজেট চাই।’
এনসিপির শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সরকার বর্তমান দেশের অর্থনীতি খুব ভালোভাবে ফেস করতে পারত, যদি তারা ন্যূনতম জাতীয় ঐক্য বজায় রাখত। অর্থনৈতিক সংস্কার রাজনৈতিক সংস্কারের সঙ্গে অত্যন্ত সম্পর্কিত। আমরা দেখলাম, প্রথম অধিবেশনে সরকার জুলাই সনদ ও গণভোটে রাজনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা করেনি। ফলে আমাদের অর্থনৈতিক সংস্কারের যে যাত্রা ব্যাপকভাবে শুরু হওয়ার কথা ছিল, সেখান থেকে আমরা আবার দুই ধাপ পিছিয়ে গেলাম।’
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ব্যাংকিং খাতে বিগত ১৬ বছরে নজিরবিহীন লুটপাট ও দুর্নীতি হয়েছে। কিছু ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও পরিবারকেই বিশাল বিশাল অঙ্কের ঋণ দেওয়া হয়েছে এবং সেই ঋণের টাকা তারা বিদেশে পাচার করেছে, তারা ঋণখেলাপি হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম যোগ করে বলেন, ‘বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের সামান্য প্রত্যাশা যে—এই সংস্কৃতি বাংলাদেশে আর হবে না। কিন্তু সরকারের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে যে—সরকারের এস আলম কে হবে, এই সরকারের সালমান এফ রহমান কে হবে—এইটার একটা প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।’
বিরোধীদলীয় এ নেতা বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের নিজের উপদেষ্টা কমিটিতে রেখে বিশ্বাস অর্জন করা যায় না। কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ব্যবসায়ীদের বিশ্বাস অর্জন করা দরকার। যেসব ব্যবসায়ী একটু সৎভাবে ব্যবসা করে, তাদের ঋণ দেওয়া; যারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, তাদের শিল্প বিস্তারের কথা আমরা বলে আসছি। কিন্তু বড় বড় গোষ্ঠী, করপোরেটকে ঋণ দেওয়া হয়, যে ঋণ তারা পায় রাজনৈতিক লবিংয়ের মাধ্যমে। আর সেই ঋণ শোধ করা হয় না।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতের বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি সেটি সাধারণ মানুষের সহজে ও কম খরচে সেবা প্রাপ্তির উপযোগী করা প্রয়োজন। বর্তমানে এই খাতে একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও গতিশীলতা তৈরি হয়েছে। সরকারপ্রধান জিডিপির ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়ের সদিচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যা একটি ইতিবাচক দিক। তবে এই সুযোগকে কার্যকর করতে হলে বাস্তবসম্মত কৌশল প্রয়োজন।
আলোচনা সভায় এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারসহ বিভিন্ন পর্বে আরও অংশ নেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক, ইন্টারন্যাশনাল সায়েন্স রিসার্চ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট জাহিদুল বারী প্রমুখ।