জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অভিযোগ করেছে, নির্বাচনের ফলাফল ‘টেম্পারিং’-এর চেষ্টা হচ্ছে। রাজধানীর বাংলামোটরের রূপায়ণ টাওয়ারে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন দলের মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, ‘বিভিন্ন আসনে ফলাফল টেম্পারিংয়ের চেষ্টা চলছে। কিছু আসনে বিএনপির প্রার্থীরা হেরে যাচ্ছিলেন এবং কয়েকটি আসনে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা জয়ের দিকে ছিলেন। তখন থেকেই ফলাফল নিয়ে অসংলগ্নতা দেখা দিতে শুরু করে।’
আসিফ দাবি করেন, ঢাকা-১৩ আসনে কেন্দ্র থেকে এক ধরনের ফলাফল আসলেও রিটার্নিং কর্মকর্তা ভিন্ন ঘোষণা দিচ্ছেন, যা নিয়ে গণমাধ্যমেও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ হয়েছে।
এনসিপির এই নেতা বলেন, ঢাকা-১৫ আসনে এনসিপির শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ক্ষেত্রে প্রথমদিকে ২০ হাজার থেকে ২২ হাজার ভোটের ব্যবধানের তথ্য পাওয়া গেলেও পরে বিএনপি প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় এবং তা গণমাধ্যমেও প্রচারিত হয়। মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন হলেও সেখানে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘ঢাকা-১৬ ও ঢাকা-১৭ আসনেও গণনা শেষ হওয়ার আগেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরেই মিডিয়ার মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত ও ম্যানিপুলেশনের চেষ্টা চলছে।’ তিনি বলেন, ঢাকা-১৯ আসনের একটি কেন্দ্রে বিএনপি ৪৬০ এবং শাপলা কলি প্রতীক ৬০০টির বেশি ভোট পেলেও রিটার্নিং কর্মকর্তা উল্টো ঘোষণা দিয়েছেন।
আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, কুড়িগ্রাম-২ আসনে এনসিপির প্রার্থীকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করার পর বিএনপির কর্মীরা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করে ফলাফল পরিবর্তনের দাবি জানান। একই ধরনের ঘটনা ঢাকা-৮ আসনেও ঘটেছে। একটি কেন্দ্রে ফলাফল মানা হয়নি বলে আটবার গণনা করা হয়েছে।
এনসিপির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান বলেন, ‘ঢাকা-১১ আসনে প্রতিটি কেন্দ্রের ফলাফল যোগ করে নাহিদ ইসলাম প্রায় ৬ হাজার ভোটে এগিয়ে থাকলেও রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষণায় তিনি মাত্র দেড় হাজার ভোটে এগিয়ে আছেন। ত্রুটি থাকায় আমরা সেখানে পুনর্গণনার দাবি জানাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘কম ব্যবধানে জয়-পরাজয়ের ক্ষেত্রে যদি তিন-চার হাজার ভোটের পার্থক্যের ভুল দেখা যায়, তাহলে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। এই সন্দেহ নিয়ে সামনে এগোনো যায় না।’
আসিফ মাহমুদ ঢাকা-৮ আসনে ফলাফল টেম্পারিংয়ের প্রমাণ হিসেবে একটি অডিও রেকর্ডিং তুলে ধরেন। সেখানে বাতিল ভোট বিএনপির পক্ষে গণনা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তদন্ত ছাড়া ফলাফল ঘোষণা করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, সব অভিযোগ সুস্পষ্টভাবে খতিয়ে দেখে ব্যাখ্যা ছাড়া কোনো ফলাফল ঘোষণা না করতে। বাতিল ভোট বাদ দিয়ে সঠিকভাবে পুনর্গণনা করে ফলাফল ঘোষণার দাবি জানিয়েছে দলটি।