জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদকে (ডাকসু) ‘মাদকের আড্ডা ও বেশ্যাখানা’ বলার প্রতিবাদ করায় অনলাইনে দলটির সমর্থকদের হেনস্তার শিকার হচ্ছেন ডাকসুর সদস্য হেমা চাকমা। আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাবির মধুর ক্যান্টিন প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘সাইবার বুলিং’ এর শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।
হেমা চাকমা বলেন, ‘গত পরশুদিন একজন জামায়াতের নেতা প্রকাশ্যে বলেছেন, ডাকসু মাদকের আড্ডা ছিল, বেশ্যাখানা ছিল। এটার প্রতিবাদটা করার পরে রীতিমতভাবে আবারো একদম সিস্টেমেটিক্যালি সাইবার বুলিংয়ের যে ব্যাপারটা আছে, সেটা খুব চমৎকারভাবে ঘটছে আমার সাথে। এই সাইবার বুলিংয়ের অ্যাটাকটা যখন কোন একটা নারীর জীবনে প্রথম আসে, সে অনেক বিচলিত হয়। সে অনেক মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। সে স্বাভাবিক কার্যক্রম ভালোমতো করতে পারে না।’
সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে লড়াকু মনোভাব তুলে ধরে ডাকসুর এই সদস্য বলেন, ‘কিন্তু একজন নারীকে যখন বারবার এই ধরনের সাইবার বুলিং এর শিকার হতে হয় তখন কিন্তু আর গায়ে লাগে না। এই যেমন আমাকে আমাকে এখন আপনি যতই গালি দিবেন, যতই বুলি করবেন, আমার কিচ্ছু যায় আসে না। ট্রাস্ট মি, আমার কিচ্ছু যায় আসে না। আপনি আমাকে গালি দিয়ে খায়েশ মেটান। এ থেকে আমার মানসিক অবস্থা কিন্তু আর ভাঙবে না। বরং যারা গালি দিবে তাদের যে এনার্জিটা ক্ষয় হচ্ছে, তাদের জন্য আমার খুব মায়া লাগে।’
গত শনিবার রাতে (২৪ জানুয়ারি) বরগুনার পাথরঘাটায় বরগুনা-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সুলতান আহমেদের পক্ষে এক নির্বাচনী সভায় ডাকসু নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বরগুনা জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি মো. শামীম আহসান।
সেই মন্তব্যের প্রতিবাদ করায় জামায়াত সমর্কদের সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলনে হেমা বলেন, ‘গতকাল থেকে সাইবার বুলিংয়ের মাত্রাটা যে কি ধরনের সেটা আমি একটু কথা বলি। আমার একটা ছবি কালকে পোস্ট করার পরে কেন আমি মুখ গোমরা করে আছি সেটা নিয়ে খুব ধরনের রিসার্চ চলছে। আমার আসলে তাদের জন্য খুব মায়া লাগে। এই যে খবিশগুলো একটা মেয়েকে নিয়ে তার ছবিতে কেন তার মুখ মুখে কেন হাসি নাই? কেন গোড়ামুখি আছে সেটা নিয়ে তারা রিসার্চ করে।’
তিনি আরো বলেন, ‘গত পরশুদিন আমরা যেটা নিয়ে আন্দোলন করেছিলাম যে জনসম্মুখে প্রকাশ্যে নারীদেরকে যে এভাবে স্লাটশেমিং করা হচ্ছে, ডাকসুর মত একটা ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে যখন প্রকাশ্যে জনসম্মুখে এ ধরনের মন্তব্য করা হয় তাহলে সেই ধরনের নেতাকে আমি কী বলব? আমি আসলে নেতাও বলতে চাই না। এই ধরনের মানুষকে আমি আসলে গুনিই না। কেন গুনব?’
পরে এক ভিডিওবার্তায় জামায়াত শামীম ডাকসু নিয়ে মন্তব্যের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চান। তবে তিনি ভুল স্বীকার করেননি। জামায়াত তার রুকন পদ স্থগিত করেছে।
সেই প্রসঙ্গে হেমা চাকমা বলেন, ‘আপনারা বলছেন, ভুল ভুলক্রমে মন্তব্যগুলা চলে আসে। কিন্তু আমি কখনোই মনে করছি না, মানুষ ভুলভাবে এটা বলতে পারে। আমার কাছে মনে হয়, অবচেতন মনে মানুষের চিন্তা–ভাবনা যখন ওই লুপের মধ্যে ঘুরতে থাকে অবচেতন মনে, তখন ঠুস করে এ কথাগুলো চলে আসে। পরবর্তীতে সে যদি বলে, এটা আমার ভুল হয়েছে, এটা আমার ব্যক্তিগত বক্তব্য। আমি জাস্ট বলব, এগুলো হচ্ছে হাস্যকর একটা এক্সকিউজ।’
তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা যদি মনে করেন, এই মেয়েগুলো এখানে যারা উপস্থিত আছে এবং যারা উপস্থিত নেই এই মেয়েগুলোকে গালি দিয়ে, স্লট শেমিং করে, সাইবার বুলিং করে দমিয়ে রাখতে পারবেন তাদের জন্য এক বালতি সমবেদনা রইল। কারণ আমরা আসলে এইসব জিনিস পার করে আসছি। এখন আমাদের সামনের যে পথগুলো আছে, সেই পথে আমরা সবাই হাতে হাত ধরে এগিয়ে যেতে চাই।’