হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

জকিগঞ্জ হত্যাকাণ্ড

সম্পাদকীয়

বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে ভাইয়ের হাতে খুন হয়েছে ভাই। সিলেটের জকিগঞ্জে ঘটেছে এই ঘটনা। খেলা দেখার সময় উত্তেজনায় চিৎকার করে উঠলে চাচাতো ভাই নিষেধ করেছিলেন। তা নিয়েই ছড়ায় আরও উত্তেজনা। এক ভাইয়ের হাতে উঠে আসে ছুরি এবং কোনো রকম ভাবনা-চিন্তার মধ্যে না গিয়ে তিনি সেই ছুরি বসিয়ে দেন চাচাতো ভাইয়ের পেটে। খেলা দেখা লাটে ওঠে। হামলাকারী পালিয়ে যান আর ধুঁকতে থাকা ভাই মারা যান।

আটলান্টিকের অপর পারে বিশ্বকাপ নামক যে উন্মাদনা সারা বিশ্বকে উত্তপ্ত করে রেখেছে, তারই আঁচে হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন সুদূর বাংলাদেশের সিলেটের নিভৃত এক অঞ্চলের একজন মানুষ, এর কি কোনো অর্থ হয়? খেলাটি ছিল ইংল্যান্ড এবং ডিআর কঙ্গোর মধ্যে। যদি ধরেও নেওয়া হয় ইংল্যান্ড বা কঙ্গোর সমর্থক হিসেবে উত্তেজনা চলছিল, তাতেও মেনে নেওয়া যায় না যে স্রেফ চিৎকারের কারণে ছুরি উঠে আসবে কারও হাতে এবং তা দিয়ে হত্যা করা হবে আরেকজনকে।

বাংলাদেশে বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে চিরাচরিতভাবে যে উন্মাদনার সৃষ্টি হয়, তার কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া কঠিন। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থক গোষ্ঠীর প্রবল দাপটের পাশাপাশি এখন ফ্রান্স, জার্মানিসহ নতুন নতুন অনেক দলের প্রতি সমর্থন বাড়তে দেখা যাচ্ছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরানসহ আরও কিছু অ-ইউরোপীয় ও অ-লাতিন দেশের প্রতিও ধীরে ধীরে সমর্থক গোষ্ঠীর সৃষ্টি হচ্ছে। ফুটবলও আর আগের মতো কোনো একক দলের কবজায় নেই। যেকোনো সময় যেকোনো দল যেকোনো দলকে পরাজিত করার সামর্থ্য রাখে। জার্মানি যেভাবে পরাজিত হয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল, সেটাই এই বিশ্বকাপের একমাত্র নাটকীয় ঘটনা নয়। নকআউট পর্ব শুরু হওয়ার পর থেকে এ রকম ঘটনা ঘটতেই থাকবে। জার্মানির পরাজয়কে আমরা অঘটন বলছি না, ঘটনাই বলছি। কারণ হলো, কোনো দলকেই এখন আর দুর্বল দল হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়।

ফুটবল নিয়ে বাঙালির এই চরম আবেগ এবং তার বহিঃপ্রকাশ কখনো কখনো খেলাধুলার মূল স্পিরিটকে ম্লান করে দেয়। আমাদের দেশের রাজনীতিতেও যেমন চরম প্রতিহিংসা, দলাদলি এবং মাস্তানির বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়, তারই প্রতিফলন দেখা যায় বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে। একই পরিবারের বিভিন্ন দল সমর্থন করা সদস্যরা একে অন্যের প্রতি চরম বৈরী হয়ে ওঠেন। খেলার আনন্দকে উপভোগ না করে তা অঘটনের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার মধ্যে আর যাই থাকুক স্পোর্টসম্যান স্পিরিট থাকে না।

জকিগঞ্জের এই হত্যাকাণ্ড কি বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের কোনো শিক্ষা দেবে? খেলা নিয়ে একে অপরের প্রতি মানুষের চরম বৈরী ভাবকে কি একটু সংযত করবে? কোথাকার কোন ভিনদেশি মাঠে কোথাকার কোন খেলোয়াড়েরা তাঁদের নিজ দেশের হয়ে খেলে যাচ্ছেন আর বাংলাদেশে তাঁদের সমর্থকেরা একে অন্যকে শত্রুতে পরিণত করছে, হত্যা করছে—এ এক চরম লজ্জার বিষয়। বিশ্বকাপের উত্তেজনা অনুভব করুন, কিন্তু তা নিয়ে বিদ্বেষ ছড়াবেন না—এটা আমরা কবে শিখব?

মাদ্রাসাশিক্ষকের ‘বীরত্ব’

পাঠদান বিঘ্নিত

হৃদয়হীন এক নারী

দালাল

একটি মহিষের কাহিনি

নদীভাঙন

শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক

কৃতজ্ঞতা, অঙ্গীকার ও আগামীর প্রত্যয়

আশুরার মহৎ বার্তা

ইলিশের উৎপাদন