হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

নির্বাচন-পরবর্তী প্রত্যাশা

সম্পাদকীয়

কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার পর অবশেষে নির্বাচনটা হয়ে গেল। সারা দেশের মানুষের মধ্যে ভোট নিয়ে উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। এককথায় এই নির্বাচনকে উৎসবমুখর বলতে হবে। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর সম্ভবত নাগরিকদের সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ছিল ‘নির্বাচন কি হবে?’ এত সংশয় প্রকাশের কারণ একেবারে অমূলকও ছিল না। কারণ নির্বাচন না হওয়া নিয়ে নানা আলামত দেখা গেছে।

আপাতত বলা যায়, কয়েক দিনের মধ্যে নতুন একটি সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে। এখন গত দেড় বছর বা তার বেশি সময় ধরে যে অনিশ্চয়তা চলছিল, তা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময়। নতুন সরকারের সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলো সম্পর্কে তারা ভালোভাবে অবগত আছে। এসব চ্যালেঞ্জ দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে। বাংলাদেশকে এমন একটি প্রবৃদ্ধির হার বজায় রাখতে হবে, যেটি দেশের মানুষের আয় বাড়াবে, কাজের সুযোগ তৈরি করবে এবং ১৮ কোটি মানুষের ক্রমবর্ধমান আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারবে।

বাংলাদেশ বিভিন্ন সময় অভ্যুত্থান, সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে গেছে। জাতিকে রাজনৈতিকভাবে পরিপক্বতার দিকে নিয়ে যেতে একটি শক্ত হাতের প্রয়োজন। একটি শক্ত হাতের প্রয়োজন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জুলাই অভ্যুত্থানের স্পিরিটকে ধারণ করে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পালাবদলই নয়। নির্বাচন হলো জনগণের আস্থা, প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ স্বপ্নের বহিঃপ্রকাশ। সাধারণ নাগরিকেরা ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করে এই বিশ্বাসে যে নির্বাচিত সরকার সংবিধান, আইন ও ন্যায়বিচারের আলোকে দেশ পরিচালনা করবে।

নতুন সরকার ধর্ম, বর্ণ, দল বা মতের বিভাজন অতিক্রম করে নারী-পুরুষনির্বিশেষে সমান মর্যাদা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা নতুন সরকারের প্রধান দায়িত্ব। এত দিন যেসব মব সন্ত্রাস, নারী নিগ্রহসহ নানা অন্যায়-অত্যাচার হয়েছে, এসব যেন আজকের পর থেকে আর না হয়। এই সমস্ত কর্মকাণ্ড কেবল মানবাধিকার লঙ্ঘনই করে না, বরং রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তিকেও দুর্বল করে দেয়। গণতন্ত্র টিকে থাকে প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর। আশা করি, নির্বাচিত সরকার সব অন্যায়কে শক্ত হাতে দমন করে আইন কাঠামোর ভেতরে থেকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে, যাতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে।

গণতন্ত্রের সৌন্দর্য তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন ভিন্নমত, বিশেষ করে বিরোধী দলকে শত্রু মনে করা হবে না। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দলের ভূমিকা অপরিসীম। পূর্বের মতো আমরা কোনো গৃহপালিত বিরোধী দল দেখতে চাই না। কারণ সংলাপ, সহমর্মিতা ও নীতিনিষ্ঠতাই পারে একটি স্থিতিশীল ও গণতন্ত্রমুখী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে।

নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক, শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হওয়া উচিত গণতন্ত্রেরই। নতুন নেতৃত্বের প্রতি তাই আহ্বান থাকবে ক্ষমতা নয়, দায়িত্বকে প্রাধান্য দিন। জনগণের ভোট সত্যিকার অর্থে সার্থক হবে, আর বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে।

আজ ভোট উৎসব

নিছক ছোট একটি ঘটনা

নির্যাতন

পর্যটন বনাম জীবিকা

৫৫ শতাংশ ভোট

ভোটের মাঠে সহিংসতা

সিল

কাণ্ড বটে!

শবে বরাত আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী

কৃষকের মাথায় হাত