হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

এই নির্মমতার শেষ কোথায়

সম্পাদকীয়

নরসিংদীর মাধবদীতে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে তার বাবার সামনে থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কিশোরীটি ১৫ দিন আগে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছে বিচার চাইতে গেলে সেই ইউপি সদস্য মীমাংসা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা বলেন। এ ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে সেই ইউপি সদস্য আসলে অপরাধীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

আমাদের গ্রামীণ সমাজে সালিস বা মীমাংসার নামে গুরুতর অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার যে অপসংস্কৃতি রয়েছে, তা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তোলে। যখন একজন অপরাধী বুঝতে পারে যে টাকার জোর বা রাজনৈতিক প্রভাবে সে পার পেয়ে যাবে, তখনই সে ভুক্তভোগীর কণ্ঠরোধ করতে খুনের মতো জঘন্য পথ বেছে নেয়।

আরও ভয়াবহ ব্যাপার হলো, ভুক্তভোগী পরিবারটি যখন গ্রাম ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক সেই সময় বাবার সামনে থেকে মেয়েকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়। জনপ্রতিনিধিদের নির্লিপ্ততা এবং পুলিশের কাছে পৌঁছানোর আগেই মীমাংসার চাপ প্রয়োগ করা আদতে অপরাধীদের প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করার শামিল। আইনের শাসন তখনই কার্যকর হয়, যখন অপরাধী অপরাধ করার আগে দণ্ডের ভয়ে কম্পমান থাকে। কিন্তু এখানে উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারই আতঙ্কে এলাকা ছাড়ার পথ খুঁজছিল।

একজন কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে, আবার মেম্বারকে অভিযোগ দিয়ে বিচার চাওয়ার কারণে অপহরণ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে! আমরা এ কোন সমাজে বাস করছি? কতটা পাশবিক মানসিকতার হলে এ রকম নির্মম ঘটনা ঘটাতে পারে?

কে বলেছে দেশে আইনের শাসন নেই? এ ধরনের ধর্ষণের ঘটনায় বিচারের মাধ্যমে তো অনেককে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তারপরেও কেন ধর্ষণের ঘটনাগুলো রোধ করা যাচ্ছে না? সমস্যাটা আসলে কোথায়? মানুষের গড়া সমাজে নাকি তাদের মগজে? প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে পাওয়া অনেক জটিল। তাহলে সমাধান কীভাবে হবে?

ধর্ষণের মতো মামলায় বিচার পেতে বছরের পর বছর সময় লেগে যাওয়া অপরাধীদের সাহস বাড়িয়ে দেয়। স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা অপরাধীরা নিজেদের আইনের ঊর্ধ্বে মনে করে। আমাদের দেশে মামলার বাদী বা সাক্ষীদের সুরক্ষায় কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই, যার ফলে অপরাধীরা খুব সহজেই তাদের ওপর হামলা করতে পারে।

মাধবদীর এই ঘটনায় পুলিশ প্রধান অভিযুক্তসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। কেবল মামলা বা কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। এই ঘটনার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার নিশ্চিত করতে হবে, যেন তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। পাশাপাশি ধর্ষণের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে ‘মীমাংসা’ করার অপচেষ্টাকে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। পুলিশ প্রশাসনকে আরও জনবান্ধব ও দ্রুত সাড়াদানকারী সংস্থায় পরিণত হতে হবে, যেন কোনো ভুক্তভোগীকে মেম্বার-চেয়ারম্যানের দুয়ারে বিচার ভিক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ হারাতে না হয়।

ভাগিনার চাঁদা তোলা

ভুলের পুনরাবৃত্তি যেন না হয়

‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ কাণ্ড

উন্নয়ন যখন ভোগান্তির নাম

জুলুম

মহান শহীদ দিবস

বিদ্যুতে লুটপাটের দায় কার

‘গিফট বক্স’

নতুন সরকারকে অভিনন্দন

শুরু হয়ে গেছে