হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

হুমকি

সম্পাদকীয়

রাজনীতির ময়দানটাকে কি হত্যার মাঠে পরিণত করার বাসনা মনে পুষছেন কেউ কেউ? এই তো রংপুরের এক যুবদল নেতা যখন কেব্‌ল প্রতিষ্ঠানের একজন জিএমকে ফোন করে বউ-বাচ্চাসহ গুলি করে আসার হুমকি দেন, তখন বুঝতে হয় এই রাজনৈতিক ধারা থেকে নৈতিকতাই উধাও হয়ে গেছে। ইউনূস সরকারের শাসনের সময় মবতন্ত্র-আতঙ্ক জাগাত মানুষের মনে, এখন কি যুবদল, ছাত্রদলের নেতারা সেই শূন্যস্থান পূরণ করার প্রক্রিয়ায় আছেন?

তবে মবতন্ত্রের সঙ্গে নির্বাচিত সরকারের সময়টায় একটু পার্থক্য আছে। মবতন্ত্রের সময় মবস্টাররা থাকত ধরাছোঁয়ার বাইরে। এমনকি পুলিশকে বীরদর্পে হুমকি দিয়ে বেড়াত। ১৮ মাসে এ রকম কত যে ঘটনা ঘটেছে, তার ইয়ত্তা নেই। খুনের হুমকি দেওয়া যুবদল নেতা অবশ্য সরকার বা প্রশাসনের আনুকূল্য পাননি, তাঁকে এবং তাঁর সহযোগী আরেকজনকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই দুই গুণধর সাবেক ছাত্রলীগ নেতার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দখল নিতে গিয়ে বাধা পাওয়ায় বেজায় চটেছেন। আর সেই রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতেই প্রতিষ্ঠানের জিএমকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন।

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানা যায়। প্রশ্ন হলো, এই ঘটনা কি শুধু রংপুরের প্রেসক্লাব এলাকায়ই সীমাবদ্ধ? এর বাইরে কি যুবদল বা ছাত্রদল পেশিশক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে না? পত্রপত্রিকা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দিকে নজর রাখলেই বোঝা যায়, রাজনীতি দিন দিন পেশিশক্তিনির্ভর হয়ে যাচ্ছে। ইউনূস আমলে ক্ষমতাসীনেরা পেশিশক্তির উত্থানের ব্যাপারে নীরব থেকেছে, ফলে তরুণেরাও বিপথে গেছে। নানা জায়গায় মব সৃষ্টি করে বিশিষ্ট নেতাদেরও অপমান করার যে সংস্কৃতি চালু হয়েছিল, তা থেকে কি উদ্ধার নেই?

আর একটা কথা খুব জোর দিয়ে বলা দরকার। কিছু হলেই আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে আখ্যায়িত করে যে কাউকে অপমান করার যে সংস্কৃতি চালু হয়েছে, তা খুবই নিকৃষ্ট ধরনের ঐতিহ্য। যুক্তিতে পেরে না উঠলে, অন্যায় করে ধরা পড়লেই যেন সব যুক্তি অন্ধ হয়ে যায়। তখন যে কাউকে যে কারও দোসর বানিয়ে ফায়দা লোটার অপচেষ্টা হয়। আলোচ্য বহিষ্কৃত যুবদল নেতাও কেব্‌ল প্রতিষ্ঠানের জিএমকে আওয়ামী লীগের দালাল নামে আখ্যা দিয়েছেন। এই আখ্যা দিলেই যেন সাত খুন মাফ হয়ে যায়! এরপর নিজে যতই কুকর্ম করুক না কেন, তা যেন নিপাতনে সিদ্ধ হয়ে যায়। এই অন্ধতা একটি রাজনৈতিক সংগঠনকে ন্যুব্জ করে দিতে পারে। আওয়ামী লীগ তাদের শাসনামলে যে ভুল-ত্রুটি করেছে, সেগুলো নতুন রাজনীতিতে থাকবে না, এ রকমটাই তো হওয়ার কথা ছিল। শুধু আওয়ামী লীগ কেন, জোট সরকারের আমলেও রাজনীতির নামে অপরাজনীতি হয়েছিল, সে কথাও অনেকেরই স্মরণে আছে। স্বাধীনতাবিরোধী কোনো কোনো দল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চারপাশে নিজেদের ক্যাডার বাহিনীর জন্ম দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দখল করার পাঁয়তারা করেছিল। রগ কেটে আতঙ্ক জাগিয়েছিল মানুষের মনে। এই সব অনৈতিকতা থেকেই তো বেরিয়ে আসার শপথ নিতে হবে।

কিন্তু সে পথের সন্ধান কি আদৌ পাওয়া যাবে?

পিয়নের ক্ষমতা

৯ শতাংশ

ইরানে হামলা

এই নির্মমতার শেষ কোথায়

ভাগিনার চাঁদা তোলা

ভুলের পুনরাবৃত্তি যেন না হয়

‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ কাণ্ড

উন্নয়ন যখন ভোগান্তির নাম

জুলুম

মহান শহীদ দিবস