হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

অ্যান্টিবায়োটিক যখন বিপদের কারণ

সম্পাদকীয়

সারা দেশে প্রতিদিনই হামে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। যা স্বাস্থ্য খাতে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এ অবস্থায় সম্প্রতি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রামেক) একটি গবেষণা সংবেদনশীল যেকোনো মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলবে। সেই গবেষণামতে, রামেকে চিকিৎসাধীন শিশুদের শরীরে প্রথম সারির প্রায় সব অ্যান্টিবায়োটিকই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। তাদের দেহে ৯৬ শতাংশ অ্যান্টিবায়োটিকই কাজ করছে না। গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন রামেকের আইসিইউ বিভাগের ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। সহগবেষক হিসেবে ছিলেন আরও কয়েক নারী চিকিৎসক। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত পরিচালিত হয় এ গবেষণা। এতে পিআইসিইউতে চিকিৎসাধীন ৪৯ শিশুর শরীর থেকে জীবাণু সংগ্রহ করে গবেষণাটি করা হয়।

অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার ছিল চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসের অন্যতম আশীর্বাদ, যা কোটি কোটি মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে। কিন্তু আমাদের সীমাহীন অসচেতনতা, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ খাওয়ার সংস্কৃতি এবং কোর্স সম্পূর্ণ না করার প্রবণতা এই আশীর্বাদকে আজ অভিশাপে পরিণত করছে। শুধু রামেকের এই গবেষণাই নয়, এর আগেও দেশ এবং দেশের বাইরে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা অ্যান্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতা নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। সে সময় শুধু বয়স্ক মানুষের প্রসঙ্গটি সামনে এসেছিল। কিন্তু এবারের আতঙ্কের বিষয় হলো কোমলমতি শিশুরাও এ থেকে রক্ষা পাবে না!

যদিও রামেকের ৪৯ শিশুর দেহ থেকে জীবাণু সংগ্রহ করে গবেষণাটি করা হয়েছে। এখন পুরো দেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য সারা দেশের শিশুদের অবস্থা নিয়ে গবেষণা জরুরি হয়ে পড়েছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর পরিস্থিতি কেমন, তা জানতে অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে একটি সমন্বিত জাতীয় গবেষণা সম্পন্ন করা জরুরি। কারণ, তথ্য ও সঠিক পরিসংখ্যান ছাড়া এই অদৃশ্য যুদ্ধের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর কৌশল প্রণয়ন করা অসম্ভব।

গবেষণার পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো রাষ্ট্রীয় কঠোর আইনি হস্তক্ষেপ ও নীতিমালার বাস্তবায়ন। বাংলাদেশে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া যেকোনো ফার্মেসি থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে ফেলা পানির মতো সহজ। এই সর্বনাশা ব্যবস্থার অবসান ঘটাতে হবে। আইন করে প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এর লঙ্ঘনকারীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এ ছাড়া চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেও ডায়াগনস্টিক টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত না হয়ে ঢালাওভাবে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করার প্রবণতা বন্ধে গাইডলাইন তৈরি করা জরুরি।

একই সঙ্গে পুরোনো অ্যান্টিবায়োটিকগুলোর কার্যকারিতা কীভাবে পুনরুদ্ধার করা যায় এবং এটার বিকল্প চিকিৎসাপদ্ধতি আবিষ্কার নিয়ে রাষ্ট্রকে এখনই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিকের সঠিক ব্যবহার নিয়ে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালাতে হবে। প্রতিটি নাগরিককে বোঝাতে হবে যে সামান্য অসুখে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া মানে নিজের এবং নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া।

রামেক হাসপাতালের গবেষণাটি আমাদের জন্য একটি বিশেষ সতর্কবার্তা। নীতিনির্ধারক, চিকিৎসক এবং সাধারণ জনগণ—সবাইকে এক হয়ে এই নীরব মহামারির বিরুদ্ধে এখনই রুখে দাঁড়াতে হবে।

বই পোড়ানো

সড়কপথের দুর্ঘটনা

পর্যটনের সম্ভাবনা

কারারক্ষীর কাণ্ড

রাজনৈতিক সহনশীলতা

মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা

সিনেমা

এখনো মব

কিশোর উত্ত্যক্তকারী

শিশু হত্যা