হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

অবমাননা

সম্পাদকীয়

তোফাজ্জলকে চোর সন্দেহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছিল। এ কথা নিশ্চয়ই দেশবাসী ভুলে যায়নি। কিছুদিন আগে ভাত চুরির অভিযোগে আজমুল তাঁর খুলনার মেসেদ গণপিটুনির শিকার হয়ে নিহত হলেন। চুরির অভিযোগ এক পাশে রেখে মনে করা যায় দীপু চন্দ্র দাসের কথা। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে তাঁকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। তোফাজ্জল, আজমুল কিংবা দীপু—কারও বিরুদ্ধেই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবু তাঁদের প্রাণ দিতে হয়েছে বিনা বিচারে। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলেও কি তাঁদের গণপিটুনিতে নিহত হওয়া জায়েজ? আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে মব সৃষ্টি করা, গণপিটুনিতে মানুষ মেরে ফেলা কোনো সভ্য সমাজের মানুষের কর্ম হতে পারে না।

সাতক্ষীরার দেবহাটার ওয়াহিদুজ্জামান শামীমের বেলায়ও একই কথা বলতে হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল ধর্ম অবমাননার। সম্প্রতি শামীমের তিনটি অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ধর্ম নিয়ে শামীম আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এলাকায় এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ১২ অক্টোবর একদল লোক তাঁর বাড়িতে গিয়ে হুমকি ও হামলা চালায়। আতঙ্কে শামীম সেদিন আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেন। পরদিন সন্ধ্যায় চিকিৎসকের চেম্বার থেকে বের করে তাঁকে উত্তেজিত এলাকাবাসী মারধর করে। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখানেও হামলা চালিয়ে পেটানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে সেখানে তিনি মারা যান।

যারা শামীমকে পিটিয়ে মারল, তারা কি আগে থেকে জানত তিনি মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ছিলেন? তাঁর পরিবার জানিয়েছে এমনটা। কয়েক বছর আগে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ার পর থেকে তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করতেন। হতে পারে সেই অস্বাভাবিকতার জন্যই তিনি এমন কোনো মন্তব্য করেছিলেন, যা ধর্ম অবমাননার শামিল। তাই বলে তাঁকে পিটিয়ে মেরে ফেলার অধিকার কারও নেই। ধরা যাক তাঁর মানসিক ভারসাম্যহীনতার তথ্যটি সঠিক নয় এবং তিনি সজ্ঞানে ধর্ম অবমাননা করেছেন। তাতেও কি তাঁকে গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলা যায়? আরও ধরা যাক, যে অডিও ক্লিপগুলো জনমনে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, সেগুলো বানোয়াট—এসব যাচাই হোক বা না হোক, তবু কি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পিটিয়ে মারার শাস্তি ওই ‘উত্তেজিত’ জনতা দিতে পারে? তারা কি যেকোনো অভিযোগ নিয়ে থানায় যেতে পারত না? এসব প্রশ্ন জনতার কাছে রইল।

পুলিশ কেন চেষ্টা করেও শামীমকে গণপিটুনি থেকে রক্ষা করতে পারল না কিংবা তাঁকে সুরক্ষা দিতে পারল না? এর উত্তর নিশ্চয়ই সাধারণ জনগণ দেবে না। নিহত

ব্যক্তির পরিবার দাবি করেছে, স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দলের নেতারা তাদের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালিয়েছিল। কোনো স্থানে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা কেন আর কীভাবে দাপট দেখাতে পারেন, তা ব্যাখ্যা না করলেও চলবে। কিন্তু পুলিশ বা রাষ্ট্র কি তাঁদের দাপট থামাতে পারবে?

এই ঘটনায় অবমাননা আসলে কার হলো, এটা ভাবা উচিত সব পক্ষেরই।

সারের সংকট

কাপড়ের রং

আটটি সেলাই

আয়াস তো একজনই নয়

কেন রবীন্দ্রনাথ

লাভ-ক্ষতির হিসাব

আমাদের লজ্জা

স্বাধীন দেশের স্বাধীন টিকিট

ভাস্কর্যে জুতার মালা!

বিমানবন্দর ও বাড়তি মানুষ