হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

বিলকিসের গল্প

সম্পাদকীয়

শেরপুরের নালিতাবাড়ীর নন্নী গ্রামের পরচুলা কারখানা নিয়ে আজকের পত্রিকায় যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, সেটি নানা দিক দিয়ে আলোচনার যোগ্য। প্রথমত, একজন নারী উদ্যোক্তার পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের ফল এই প্রতিষ্ঠান। দ্বিতীয়ত, এই প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান হয়েছে আড়াই শ নারীর। তৃতীয়ত, দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনে যখন অস্থিরতা বাড়ছে; তখন এ ধরনের ইতিবাচক ঘটনা মনে শান্তি আনে।

নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে সারা বিশ্বে সোচ্চার হয়েছে মানুষ, কিন্তু নানা কারণে আমাদের দেশে নারীদের ব্যাপারে রক্ষণশীল মনোভাবের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে।

নারীর মুক্তির যে পথগুলো আশার আলো দেখাচ্ছিল, সেসব জায়গায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দিকে চোখ রাখলে দেখা যায়, নারীদের বিরুদ্ধে উগ্র মতামত প্রকাশের হার বেড়েছে। অযৌক্তিকভাবে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বিকাশ ঘটছে। বিভিন্ন মহল সেই অন্যায়ের মদদ দিচ্ছে। এ রকম একটি পরিস্থিতিতে বিলকিস বেগমের মতো উদ্যোক্তারা আশার আলো জ্বালিয়ে রাখার কাজটি করছেন।

১৬ বছর বয়সে যে নারীর বিয়ে হয়েছিল, তিনি প্রথাগতভাবে অন্য অনেকের মতো রান্নাঘরকেই জীবনের লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিতে পারতেন। কিন্তু ঘরে বসে না থেকে তিনি কাঁথা সেলাইয়ের কাজে মনোযোগ দেন। এরপর স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা ইসমত আরার কাছে পরচুলা তৈরির কাজ শেখেন। তারপরই বিলকিস বেগমের ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। ছোট্ট একটি প্রতিষ্ঠান করেছিলেন ১০-১২ জন নারীকে নিয়ে।

এখন সেখানে ১২ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা বেতনে কাজ করেন অন্তত আড়াই শ নারী।

বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। নারীরা যদি দেশের উন্নতির সঙ্গে যুক্ত না হন, তাহলে কোনোভাবেই এই রাষ্ট্র এগিয়ে যেতে পারবে না। আমাদের দেশে লিঙ্গবৈষম্য প্রবল। নারী যদি স্বনির্ভর হতে পারেন, তাহলে নিজের আয়ে নিজ পরিবারের ভরসাস্থল হয়ে উঠতে পারেন। বিপদের সময় অর্থনৈতিকভাবে তিনি দাঁড়াতে পারেন পরিবারের পাশে। কর্মজীবী নারী শিক্ষার আলোতে উদ্ভাসিত হলে, শিক্ষা ও জ্ঞানের জগতের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ফলে যৌক্তিকভাবে চিন্তা করার পথ প্রশস্ত হয়। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারী হয়ে উঠতে পারেন একজন সফল কান্ডারি। নারীর ক্ষমতায়ন হলে সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে তা সহায়ক হয়ে ওঠে।

এতক্ষণ যা বলা হলো, তা বহুবার বলা হয়েছে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে সমাজ-সংসারে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের প্রশ্নটি এখনো বিদ্যমান। এর সমাধান হয়নি। নারীর জীবনে প্রকৃত ক্ষমতায়ন হলো, নারী যেন তাঁর নিজের ইচ্ছায়, যোগ্যতা ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বাধীনভাবে জীবন বেছে নিতে পারেন। সেই স্বাধীন জীবন বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি যেন কোনো ধরনের বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার না হন।

বিলকিসের মতো নারীরা এগিয়ে এলে পশ্চাৎপদ ও অন্ধকার হয়ে থাকা পথটি আলোকিত হয়। সেই আলোয় সম্মিলিত জনসংঘ পথ দেখে নির্ভয়ে চলতে শেখে। রক্ষণশীলতা কাটিয়ে বিলকিসদের পাশে সর্বস্তরের মানুষ দাঁড়াক, তাঁদের উৎসাহ দিক, এটাই আমাদের কামনা।

রেলওয়েতে টিকিট জালিয়াতি

অবমাননা

সারের সংকট

কাপড়ের রং

আটটি সেলাই

আয়াস তো একজনই নয়

কেন রবীন্দ্রনাথ

লাভ-ক্ষতির হিসাব

আমাদের লজ্জা

স্বাধীন দেশের স্বাধীন টিকিট