হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

ভুলের পুনরাবৃত্তি যেন না হয়

সম্পাদকীয়

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এমন অনেক ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে, যা অভূতপূর্ব। তার মধ্যে অন্যতম হলো, আইনবহির্ভূতভাবে মব সন্ত্রাস তৈরি করে কিছু আদায় করে নেওয়া। কে কখন কোন স্বার্থান্বেষীর কবলে পড়ে অপমানিত হবেন, অর্থ খোয়াবেন, তা এতটাই অনিশ্চিত ছিল যে এই দুর্ঘটনাগুলো আতঙ্কে পরিণত হয়েছিল। সমন্বয়ক শব্দটাই হয়ে উঠেছিল আতঙ্কের আরেক নাম। একটি সফল গণ-আন্দোলন করেছিল যে ছাত্র-জনতা, তারা একসময় লক্ষ করল, স্বাধীনতাবিরোধী একটি চক্র নানাভাবে পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে সরকারের কাছ থেকে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব নিয়ে যা খুশি তা বলে যাচ্ছে তারা। জুলাই-আগস্টের সুবিধা নিয়ে পদায়নের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটতে দেখা গেছে। মামলা-বাণিজ্যও অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। শুধু কি তাই? সংবিধানের অধীনে শপথ নিয়ে সংবিধান ভঙ্গ করার কীর্তিও গড়েছে তারা। বাক্‌স্বাধীনতা কিংবা সংবাদপত্রের স্বাধীনতাও কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছিল, সেটাও জানেন সে সময়টি পার করা মানুষেরা।

নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এই সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের করা ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটাবে না, সেটাই কাঙ্ক্ষিত। ভুল পুনরাবৃত্তি না করার ক্ষেত্রে প্রধান কাজটি হবে সুশাসনের প্রতি বিশ্বস্ত থাকা। আর এ ক্ষেত্রে নতুন যাঁদের পদায়ন হয়েছে, তাঁরা যেন মিডিয়ায় আলোচিত হওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে না থাকেন, সে বিষয়ে সরকারি মহলের একটি সিদ্ধান্তে আসতে হবে। মিডিয়ায় আলোচিত হওয়া, এমনকি ভাইরাল হওয়ার প্রতি রাজনীতিবিদদের যে একটা আগ্রহ আছে এবং সে আগ্রহ যে তাঁর পতনের কারণ হতে পারে, সেটা অধিকাংশ রাজনীতিবিদই বুঝতে চান না। এটা তাঁদের জন্য কতটা বিপদ ডেকে আনতে পারে, তা দু-একজন মন্ত্রীর কথাবার্তায় প্রকাশিত হয়েছে। চাঁদাবাজির নতুন সংজ্ঞা দিতে গিয়ে এক মন্ত্রী এমন সব কথা বলেছেন, যা চাঁদাবাজদেরই উৎসাহিত করে তুলতে পারে।

নিজেকে প্রকাশ করার চেয়ে কোন কাজগুলো জাতির জন্য মঙ্গলকর, সেটা উপলব্ধি করে সে কাজগুলো করে যেতে পারলে জনগণ তাঁদের ওপর আস্থা রাখবে। বিতর্ক তৈরি হতে পারে, এ রকম অযাচিত কথাবার্তা বলাও তাতে বন্ধ হতে পারে। ক্ষমতাসীনেরা নির্বাচনের আগে নিজেদের জনগণের সেবক হিসেবে নানা রকম ওয়াদা করে থাকেন, কিন্তু নির্বাচিত হয়ে যাওয়ার পর জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বেমালুম ভুলে যান। আন্তরিকতা থাকলে বর্তমান সরকার সেই মর্যাদাহানিকর ঐতিহ্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। এ জন্য সততা, কাজের প্রতি একাগ্রতা, নিষ্ঠা এবং জনগণের হৃদ্‌স্পন্দন বুঝে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করার মতো করে নিজেকে তৈরি করে নেওয়া জরুরি। আমাদের প্রচলিত রাজনীতিতে সেই পথ গ্রহণ করার মানসিকতা কতটা আছে, সে প্রশ্নও এড়ানো যাবে না। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর একটা নিয়ম তো বের করতে হবে। যারা রাজনীতিতে নতুন কিছু করবে বলে কথা দিয়েছিল, তাদের ব্যর্থতার অন্যতম দুটো কারণ ছিল অর্থের প্রতি লোভ এবং অভিজ্ঞতাহীনতা। এ কথা মাথায় রেখেই নতুন সরকারকে জনসেবার পথ খুঁজে নিতে হবে।

‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ কাণ্ড

উন্নয়ন যখন ভোগান্তির নাম

জুলুম

মহান শহীদ দিবস

বিদ্যুতে লুটপাটের দায় কার

‘গিফট বক্স’

নতুন সরকারকে অভিনন্দন

শুরু হয়ে গেছে

সহিংসতা

মাত্র সাত