হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

সহিংসতা

সম্পাদকীয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়ার পর কোনো কোনো এলাকায় বিজয়ী দল বিজিত দলের কর্মী-সমর্থকদের ওপর চড়াও হয়েছে, এমন অভিযোগ উঠেছে। ভাঙচুর, হামলার মাধ্যমে ভীতি সঞ্চার করা হচ্ছে, এ রকম কথা যখন শুনতে হচ্ছে, তখন সেদিকে দৃষ্টিপাত করা বাঞ্ছনীয়।

মোটামুটি সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনী যুদ্ধ হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত দীর্ঘদিন মিত্র হিসেবে একসঙ্গে থেকেছে, আগস্ট আন্দোলনে তারা একই সঙ্গে অংশ নিয়েছে। এনসিপিও আন্দোলনেরই ফসল। সুতরাং এই নির্বাচনে যারা অংশ নিয়েছে, তাদের মধ্যে হানাহানির সম্পর্ক হবে না—এমন ধারণাই করা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন যত কাছে এসেছে, ততই দলগুলোর মধ্যে অবিশ্বাস, হানাহানির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নির্বাহী আদেশে বন্ধ করে রাখায় মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে বিএনপি-জামায়াত আর এনসিপির মধ্যে। নতুন দল হিসেবে এনসিপির ভিত্তিমূল সারা দেশে পোক্ত হয়নি বটে, কিন্তু ছয়টি আসনে তারা জয়লাভ করেছে। ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে তারা কতটা অবদান রাখতে পারবে, সেটা তাদের কার্যক্রম দেখেই দেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নেবে। জাতীয় পার্টির ভরাডুবি হয়েছে। তাদের নিয়ে গণমাধ্যমও মৌন থেকেছে। মূলত ওপরে বর্ণিত তিনটি দলকে নিয়েই নির্বাচনী আলোচনা হয়েছে।

নির্বাচনের মাঠে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়ে যাওয়ার পর এই হানাহানি, হামলার ঘটনা দুঃখজনক। কিন্তু এ কথাও স্মরণে রাখতে হবে, হামলা-মামলার ঘটনা আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে এমন এক জায়গায় পৌঁছেছিল যে সেগুলো তখনো সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি। এমনটাও মনে হয়েছে, এই হামলা-মামলা, চাঁদাবাজি, লুটপাটের ব্যাপারে কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রশাসন নীরব থেকেছে। মুক্তিযুদ্ধের স্মারকগুলো যখন ভাঙা হচ্ছিল, তখন সরকার বা প্রশাসনের অবস্থান ছিল দুঃখজনক। দায়সারা বিবৃতি দিয়ে ঘটনার ভয়াবহতা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র অথবা তৌহিদি জনতা নাম নিয়ে একদল মানুষ চড়াও হয়েছে কোনো কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর। পুলিশ বা প্রশাসন সে সময় তাদের নির্বিঘ্নে অঘটন ঘটানোর সুযোগ দিয়েছে। এসব ঘটনার তাজা স্মৃতি রয়েছে মানুষের মনে। তাই, নির্বাচনের পরেও যখন একই ধরনের ঘটনা ঘটতে দেখা যাচ্ছে, তখন কী করতে হবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো অবস্থায় প্রশাসন নেই বলেই মনে হচ্ছে। অতি দ্রুত এই অরাজকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি বড় বিজয় পেয়েছিল। নির্বাচনের পর সংখ্যালঘুদের ওপর যে নির্যাতন নেমে এসেছিল, জনমন থেকে তা মুছে যায়নি। জনগণ তা সমর্থন করেনি। এবার নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি যদি সত্যিই গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাস রাখার অঙ্গীকার করে থাকে, তবে অবিলম্বে দলের উচ্চপর্যায় থেকে এই হানাহানি অবসানের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হোক। সেই সঙ্গে সব পক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, নিজেরা যখন আক্রমণকারী, তখন আক্রমণকে জায়েজ মনে করা এবং নিজেরা যখন আক্রমণের শিকার, তখন আক্রমণকে অরাজকতা মনে করার দ্বিমুখী প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কোনো ধরনের সহিংসতাই গ্রহণযোগ্য নয়।

মাত্র সাত

সুষ্ঠু নির্বাচনের সংস্কৃতি

নির্বাচন-পরবর্তী প্রত্যাশা

আজ ভোট উৎসব

নিছক ছোট একটি ঘটনা

নির্যাতন

পর্যটন বনাম জীবিকা

৫৫ শতাংশ ভোট

ভোটের মাঠে সহিংসতা

সিল