দেশে আলু উৎপাদনের ক্ষেত্রে জয়পুরহাট জেলা দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। এ বছর ভালো ফলন হওয়ার পরেও মৌসুম শুরুর আগেই আলুর দরপতন নিয়ে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন এ জেলার চাষিরা।
তাঁরা আলু চাষ করেছেন এনজিও এবং দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আগাম ঋণ নিয়ে। এখন আলু তুলে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন ঋণের টাকা শোধ করতে। এতে তাঁদের বিঘাপ্রতি ৫-৬ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ নিয়ে আজকের পত্রিকায় ১ ফেব্রুয়ারি একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
অনেকের মনে থাকার কথা, বিগত সরকারের সময় এমন এক মৌসুমে আলুর কেজির দাম উঠেছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। এ বছর সেই আলুর দাম মাত্র ২০ টাকা কেজি। এ দামের কারণে সাধারণ ক্রেতারা স্বস্তিতে থাকলেও কৃষকেরা যে তাঁদের উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না, সেটা নিয়ে কারও মাথাব্যথা দেখা যাচ্ছে না। বিপরীতে যখন আলুর দাম বেশি ছিল, সে সময় কি কৃষকেরা বেশি টাকা পেয়েছেন? ব্যাপারটি সে রকম নয়। মূলত ব্যবসায়িক সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকেরা লোকসানে পড়েন। অন্যদিকে আলুর মৌসুমে ফলন বেশি হওয়ার কারণে বাজারে চাহিদা কম থাকে। ফলে আলুর দাম কমে যায়। বাংলাদেশের কোনো সরকারই যে কৃষককে নিয়ে ভাবে না, এ ঘটনাগুলো তার বাস্তব প্রমাণ। কৃষককে নিয়ে পরিকল্পিত ভাবনা থাকলে তাঁরা এ রকম ক্ষতির সম্মুখীন হতেন না। দেশে কিন্তু কৃষিসংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের অভাব নেই। লোকবলের যে কমতি আছে, তা-ও নয়। তারপরও কৃষক উপেক্ষিতই থাকেন।
আর কৃষককে নিয়ে এবারের অন্তর্বর্তী সরকারও যে ভাবেনি, তা তাদের ভূমিকা থেকেই বোঝা গেছে। গত সরকার ব্যবসায়িক সিন্ডিকেটকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার কারণে কৃষক ও ভোক্তা—দুই শ্রেণির মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার সিন্ডিকেটের পৃষ্ঠপোষকতা না দিলেও বাজার ব্যবস্থাপনা আগের নিয়মে চলার কারণে সংকটের সমাধান হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে তাই বর্তমান সরকারও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে পারেনি। তারা অন্তত কৃষকের কথা ভাবলে নতুন কোনো সম্ভাবনা সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু এ ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকার কোনো দৃশ্যমান পরিকল্পনা ও উদ্যোগ তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে।
কৃষক এমন একশ্রেণি যে তাঁদের নিজেদের মধ্যে সংগঠিত হওয়ার কোনো সংগঠন নেই। যে সংগঠনের মাধ্যমে তাঁরা সরকারের কাছে তাঁদের নানা সমস্যা-সংকট এবং তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্যের দাবি তুলতে পারেন। এ কারণেই জীবনের প্রায় ক্ষেত্রে তাঁরা নিজেদের ন্যায্য দাবি আদায় করতে পারেন না।
আমাদের দেশে বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো নীতিমালা এখনো করা হয়নি। এটা করা গেলে কৃষকের শস্য উৎপাদন ও বিক্রি করা একটা নিয়মের মধ্যে আসত। কৃষক তখনই সঠিক দাম পাবেন, যখন সরকার তাঁদের দিকে নজর দেবে। আমরা চাই, কৃষকের এই চিরাচরিত সমস্যার একটা সমাধান হোক। এবং আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ী দল সেই সমাধানকে গুরুত্ব দিক।