হোম > জাতীয়

ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসসহ ১১ কারণে রাজস্ব আদায় কম হচ্ছে: সংসদে অর্থমন্ত্রী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ফাইল ছবি

জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, রাজস্ব ঘাটতি ও পুঞ্জীভূত ঋণের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি, ডলারের অবমূল্যায়ন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনসহ ১১টি সুনির্দিষ্ট কারণে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পুরোপুরি অর্জিত হয়নি।

একই সঙ্গে সঞ্চয়পত্র, ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ এবং বৈদেশিক ঋণের সর্বশেষ তথ্যও প্রকাশ করেছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে এসব তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়।

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে রাজস্ব

অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর অংশ) থেকে রাজস্ব আদায়ের মোট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এপ্রিল পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৩১ হাজার ৪৬১ দশমিক ২৭ কোটি টাকা। তবে এই সময়সীমার মধ্যে আদায় হয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ দশমিক ১৬ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৭৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (এপ্রিল পর্যন্ত) রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকার বেশি।

এর আগে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যার বিপরীতে বছর শেষে মোট আদায় হয়েছিল ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৫ দশমিক ০৪ কোটি টাকা।

রাজস্ব ঘাটতির পেছনে যে ১১ কারণ

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী রাজস্ব আদায় কম হওয়ার পেছনে ১১টি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন:

ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস ও মূল্যস্ফীতি: দীর্ঘ সময় ধরে দেশে প্রায় দুই অঙ্কের কাছাকাছি (১০ শতাংশের কাছাকাছি) উচ্চ মূল্যস্ফীতি বজায় থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। ফলে মধ্যবিত্ত ও চাকরিজীবী শ্রেণির প্রকৃত সঞ্চয় ও করযোগ্য উদ্বৃত্ত আয় কমে গেছে।

ব্যবসায়িক ক্ষতি ও স্থবিরতা: শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়া এবং খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে করপোরেট কর আদায়ের ওপর।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট: গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটের কারণে তৈরি পোশাকসহ অন্য উৎপাদনমুখী শিল্পগুলো তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারেনি।

মুনাফা হ্রাস ও ডলারের অবমূল্যায়ন: ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন ও সংকুচিত মুদ্রানীতির কারণে ব্যাংকের ঋণের সুদহার বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসার পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। ফলে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিট মুনাফা কমেছে, যা আয়কর আদায়ের বড় উৎস ছিল।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন: ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান ও সরকার পরিবর্তনের কারণে দেশজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক স্থবিরতা তৈরি হয়।

বিনিয়োগ ও আমদানি হ্রাস: বিগত বছরের তুলনায় সামগ্রিক বিনিয়োগ ও আমদানি কার্যক্রমে ধীরগতি লক্ষ করা গেছে।

প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়া: মূসক (ভ্যাট) ও সম্পূরক শুল্ক প্রদানকারী বেশ কিছু বড় প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানি হ্রাস: ২৫ ও ১০ শতাংশ শুল্কহার-বিশিষ্ট পণ্যের আমদানি বিগত বছরের চেয়ে যথাক্রমে ১৮ শতাংশ এবং ৩৭ শতাংশ কমে যাওয়ায় কাস্টমস শুল্ক আদায় অনেক কমেছে।

জ্বালানি শুল্ক হ্রাস: দেশের বাজারে জ্বালানির মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পেট্রোলিয়াম পণ্যের শুল্ক-কর কমানো হয়েছে।

এলএনজিতে ভ্যাট প্রত্যাহার: তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বিলাসবহুল গাড়ি ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাস: বিলাসবহুল গাড়ির আমদানি কমে যাওয়া ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে নতুন এইচএস কোড সংযোজনের কারণে শুল্কায়ন প্রক্রিয়া ধীরগতির মুখে পড়েছে।

তবে অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বছরের শেষভাগে এসে অটোমেশন (ডিজিটালাইজেশন) ও কর ফাঁকি রোধে এনবিআরের কঠোর অবস্থানের কারণে এই ঘাটতি কিছুটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে।

বেড়েছে সরকারের ঋণ: সঞ্চয়পত্র ও ট্রেজারি বন্ডের চিত্র

সংরক্ষিত নারী আসনের আরেক সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী দেশের অভ্যন্তরীণ ঋণের সর্বশেষ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে সরকারের গৃহীত ঋণের মোট স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ১৩ হাজার ৬৭০ দশমিক ৪৮ কোটি টাকায়; যা বিগত ২০২৫ সালের মার্চের তুলনায় ২২১ দশমিক ০১ কোটি টাকা বেশি।

চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত ট্রেজারি বিল, ট্রেজারি বন্ড ও সরকারি বিনিয়োগ সুকুকের মাধ্যমে নেওয়া ঋণের মোট স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৯৩ হাজার ৮৩৭ দশমিক ২৬ কোটি টাকায়। এই খাতের ঋণ বিগত অর্থবছরের মে মাসের তুলনায় ১ লাখ ৩১ হাজার ৯৩৫ দশমিক ৪৬ কোটি টাকা বেড়েছে বলে জানান তিনি।

অপরিশোধিত বৈদেশিক ঋণ ও জলবায়ু তহবিল

সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহা. রবিউল বাশারের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বাংলাদেশের অপরিশোধিত মোট বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ছিল ৭৮ হাজার ৬৭ দশমিক ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৭ হাজার ৮০৬ কোটি ৭২ লাখ ডলার)।

এ ছাড়া, এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনের জলবায়ু তহবিল-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু জানান, বাংলাদেশ মূলত তিনটি আন্তর্জাতিক তহবিল—গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিজিএফ), গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি (জিইএফ) ও অ্যাডাপটেশন ফান্ড (এএফ) থেকে জলবায়ু অর্থায়ন পেয়ে থাকে। এই তহবিলগুলোর কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ মোট ৪৮৪ দশমিক ৪১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সাহায্য পেয়েছে।

স্টার্টআপ বাংলাদেশ থেকে ৩৬ উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানে ১০৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে: সংসদে তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী

বিটিভিতে সম্প্রচারের স্বত্ব ক্রয়ে প্রতারণার ফাঁদ, নাম বললে ‘ইয়ে’ হয়ে যাবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি হাইকোর্টে

ঋতুপর্ণা চাকমার গৃহ নির্মাণে আর্থিক অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী

পত্রিকার কাটিং নয়, বহুমাত্রিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে গবেষণা: টিআইবি

বাংলাদেশের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরিতে ভারত পুশ ইন করছে বলে মনে করি না: তথ্য উপদেষ্টা

শর্ত মানলে আ.লীগ নেতা-কর্মীরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন: জাহেদ উর রহমান

এমপিদের ‘সঠিক পথে’ রাখার দায়িত্ব ব্যক্তিগত সহকারীদের: চিফ হুইপ

সেনানিবাসে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ও মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

জাতীয় বেতন স্কেলের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চান গ্রাম পুলিশ সদস্যরা