নাটোরে কবে গ্যাস যাবে—এ প্রশ্নে জাতীয় সংসদে একপর্যায়ে জমে ওঠে ‘দুলাভাই-শালা’ পর্ব। নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর গ্যাস সংযোগের দাবি ঘিরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু নিজেকে পরিচয় দেন ‘নাটোরের জামাই’ হিসেবে। জবাবে দুলুও মন্ত্রীকে সম্বোধন করেন ‘দুলাভাই’ বলে।
এ সময় সংসদকক্ষে হাস্যরসের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তবে নাটোরে শ্বশুর বাড়ি বলে গ্যাস দেবেন বলে জানালে আরেক সংসদ সদস্য এম মাহবুবউদ্দিন খোকন মন্ত্রীকে নোয়াখালীতে আরেকটি বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। জবাবে মন্ত্রী বলেন, তাঁর আরেক বিয়ে করার আর শখ নেই।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশে নাটোর জেলার শিল্পকারখানা ও আবাসিক খাতে গ্যাস সংযোগের বিষয়টি উত্থাপন করেন এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
রুহুল কুদ্দুস তালুকদার বলেন, নাটোর একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহর। সেখানে নাটোর সুগার মিল, মিল্কভিটা, মেঘনা গ্রুপ, আরএফএল, পারটেক্সসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু গ্যাস সংযোগ না থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, নাটোর হয়ে রাজশাহীতে গ্যাস গেলেও নাটোরের মানুষ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান এখনো গ্যাস সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘পার্লামেন্টের পরিভাষায় একটা কথা আছে—উইট অ্যান্ড হিউমার। আমি প্রশ্নকর্তাকে নিয়ে একটু উইট অ্যান্ড হিউমার করতে চাই। আমরা যারা রাজনীতি করি, আমাদের সবার শ্বশুরবাড়ি আছে। সিলেটে গেলে আমাকে বলে সিলেটের দামান, আর নাটোরে গেলে বলে নাটোরের জামাই।’
এরপর মন্ত্রী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ২০০৫ সালে নাটোরে গ্যাস দেওয়ার জন্য উত্তরাঞ্চল গ্যাস সঞ্চালন কোম্পানি গঠন করেছিলেন এবং কাজও শুরু হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সরকার ২০১২ সালে ৮১ কোটি টাকার সেই প্রকল্প বন্ধ করে দেয়। তিনি বলেন, ‘গত ১৭-১৮ বছরে একটি কূপও খনন করা হয়নি। যদি বছরে চারটি করে কূপ খনন করা হতো, তাহলে আজ দেশের গ্যাস পরিস্থিতি ভিন্ন হতো।’
তিনি অভিযোগ করেন, সমুদ্রসীমা অর্জনের পরও সমুদ্রের নিচে থাকা গ্যাস ও তেল উত্তোলনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার ও ভারত তাদের সামুদ্রিক সম্পদ উত্তোলন করছে।
বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশীয় ও বিদেশি কোম্পানিকে গ্যাস অনুসন্ধানে আহ্বান জানানো হয়েছে। বাপেক্সের বিদ্যমান রিগের সঙ্গে আরও পাঁচটি রিগ যুক্ত করে দ্রুত নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
এরপর নাটোর প্রসঙ্গে ফিরে মন্ত্রী বলেন, ‘নাটোর আমার শ্বশুরবাড়ি। এখানে তো গ্যাস দিতেই হবে। আমরা যখন গ্যাস পাব, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে কাজ শুরু করে গিয়েছিলেন, ইনশাআল্লাহ আমরা সেটি শেষ করব।’
সম্পূরক প্রশ্নে রুহুল কুদ্দুছ তালুকদার নাটোরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘নাটোর শুধু বনলতা সেনের শহর নয়, রানি ভবানীর শহর। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাড়ে তিন বছরে ১৩ বার উত্তরা গণভবনে রাত্রিযাপন করেছেন। বেগম খালেদা জিয়াও নাটোরে একাধিকবার অবস্থান করেছেন। নাটোরের মানুষ জানতে চায়—তারা কবে নাগাদ গ্যাস সংযোগ পাবে।’
জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এটা তো শ্বশুরবাড়ির আবদার হয়ে গেল। আমরা কূপ খনন শুরু করেছি। গ্যাস আবিষ্কার হলে বন্ধ হয়ে যাওয়া ৮১ কোটি টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। আমি আশা করি, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নাটোরে গ্যাস যাবে এবং উদ্বোধন করা হবে।’
আলোচনার একপর্যায়ে নোয়াখালী-৪ আসনের সদস্য এম মাহবুব উদ্দিন খোকন মজা করে বলেন, ‘মন্ত্রী বলেছেন নাটোরে শ্বশুরবাড়ি বলে অগ্রাধিকার দেবেন। তাহলে উনি নোয়াখালীতেও একটা বিয়ে করেন, আমরাও গ্যাস চাই।’
এতে সংসদকক্ষে হাসির রোল পড়ে। জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমার সামনে ওনারা (বিরোধী দলকে ইঙ্গিত করে) বসে আছেন। উনারা শরিয়াহ আইন ভালো বোঝেন। তিনটা বাকি আছে এখনো, কিন্তু আমার আর শখ নাই।’