ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ চলবে। এবার ভোটাররা আলাদা দুটি ব্যালট পেপারে ভোট দিচ্ছেন। সাদা ব্যালটে সংসদ সদস্যপ্রার্থীদের এবং গোলাপি ব্যালটে গণভোট দিচ্ছেন। এবারই প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট হচ্ছে।
দীর্ঘ ১৭ বছরে তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের পর এবার প্রায় ১৩ কোটি ভোটার নতুন করে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০১৪ সালের নির্বাচন ‘একতরফা’, ২০১৮ সালের নির্বাচন ‘রাতের ভোট’ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচন ‘আমি-ডামির নির্বাচন’ হিসেবে ব্যাপক সমালোচিত ছিল। বহু ভোটারের অভিযোগ ছিল, তাঁরা ভোট দিতে পারেননি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয়। ওই বছরের ৮ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় দেড় বছর পর এই নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগ এ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না।
গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক প্রচারণা, যা শেষ হয় গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায়। একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত হওয়ায় আজ ভোট হচ্ছে ২৯৯টি আসনে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই কেন্দ্রে গণনার প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রথমে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট আলাদা করা হবে। সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট যুগপৎভাবে একই সময়ে গণনা করা হবে। দুটি ভোটের ফলাফলও একসঙ্গে ঘোষণা করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ ও নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) পরিচয়ে ১ হাজার ২৩২ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ৯৫৮টি। এবার ৫০টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ২৯৯ আসনে প্রার্থী রয়েছেন ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ এবং স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮১ জন।
এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনী ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সারা দেশে মোতায়েন রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।