বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে বিচারকাজ পরিচালিত হবে। আর অন্যান্য কার্যদিবসে শারীরিক উপস্থিতিতে আদালত পরিচালিত হবে। প্রধান বিচারপতির আদেশ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর সই করা এ-সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তি আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
এই নির্দেশনা আগামীকাল বুধবার (২২ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে বিচারকাজ চালানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন আইনজীবীরা। তাঁরা পুরো সপ্তাহ শারীরিক উপস্থিতিতে আদালতের কার্যক্রম চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে এবং বারের সভাপতির কক্ষের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ থেকে এই দাবি জানানো হয। মানববন্ধনের ব্যানারে লেখা ছিল—‘আয়োজনে: সুপ্রিম কোর্ট বারের সদস্যবৃন্দ’।
মানববন্ধনে আইনজীবীদের মধ্যে বক্তব্য দেন এ কে এম জগলুল হায়দার আফ্রিক, মোহাম্মদ আলী, তৈমুর রহমান খন্দকার, সৈয়দ মামুন মাহবুব, ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান খান, আনিসুর রহমান রায়হান, ব্যারিস্টার এম সরোয়ার হোসেন প্রমুখ।
আইনজীবীরা জানান, তাঁদের প্রতিদিন কোর্টে যেতে হবে। বিচারপতিরা এজলাসে বসে ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনা করবেন। এজলাসে একসঙ্গে সব আইনজীবী উপস্থিত থাকেন। ভার্চুয়াল হলে প্রত্যেকের জন্য পৃথকভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার বাড়বে। এতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে না, বরং ব্যবহার আরও বাড়বে। আর সরকার সংসদে বলেছে, দেশে জ্বালানির কোনো সংকট নেই। সরকারকে হেয়প্রতিপন্ন করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এরপর আইনজীবীরা বারের সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। বারের সভাপতি জানান, তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেন। পরে আইনজীবীরা বারের সভাপতির কক্ষ থেকে বের হয়ে বলেন, এর সুরাহা না হলে আগামীকাল বেলা ১১টার পর তাঁরা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে এজলাসের সামনে অবস্থান নেবেন।