জাহাজবাড়িতে জঙ্গি নাটক
রাজধানীর মিরপুরের কল্যাণপুরে জাহাজবাড়িতে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে ৯ জনকে হত্যায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই প্রতিবেদন দাখিল করা হয় বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।
মামলায় অন্য ৬ আসামি হলেন—পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হক, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম ও ডিএমপির মিরপুর বিভাগের সাবেক কমিশনার (ডিসি) জসিম উদ্দিন মোল্লা।
এই মামলার আসামিদের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন এ কে এম শহীদুল হক, আছাদুজ্জামান মিয়া ও জসিম উদ্দিন মোল্লা। তদন্ত সংস্থার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৪ মার্চ এই তিনজনকে জাহাজবাড়ি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখান ট্রাইব্যুনাল।
মামলার অভিযোগে প্রসিকিউশন উল্লেখ করে, ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাজধানীর কল্যাণপুরে ‘জাহাজবাড়ি’ নামের একটি বাড়িতে ৯ তরুণকে আটক করে রাখা হয়। পরে ডিএমপির সোয়াত (স্পেশাল উইপন্স অ্যান্ড ট্যাকটিক্স টিম) ও সিটিটিসি (কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম) টিম সেখানে প্রবেশ করে বাসার ভেতরে গুলি চালিয়ে তাদের হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ড ‘জঙ্গি হত্যা’র নামে প্রচার করা হয়। ওই সময় দেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখার জন্য ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই নাটক সাজান। নিহত ৯ তরুণকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কেউ কেউ ডিবি হেফাজতে দুই থেকে তিন মাস ধরে ছিলেন। রাতের বেলায় ব্লক রেইডের আড়ালে তাদের জাহাজবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে গুলি করে হত্যা করা হয়।
প্রসিকিউশন আরও উল্লেখ করে, জঙ্গি নাটক নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ইসলামিক ভাবধারার মানুষদের ‘জঙ্গি’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে হত্যা করে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল।