হোম > জাতীয়

শিশু সুরক্ষায় টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

শিশু নির্যাতন ও সহিংসতা প্রতিরোধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে জাতীয় পর্যায়ে একটি ‘ন্যাশনাল চাইল্ড টাস্কফোর্স’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

আজ শনিবার রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টার মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান। ‘নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেল’ এই বৈঠকের আয়োজন করে।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, শিশু সুরক্ষার দায়িত্ব কেবল পরিবার বা সমাজের নয়, রাষ্ট্রেরও। সামাজিক সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও রাষ্ট্র তার দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না। এ কারণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করে দেশের বিশিষ্টজন ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে ‘ন্যাশনাল কমিশন ফর চাইল্ড প্রটেকশন’ প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।

কায়সার কামাল বলেন, শিশু সহায়তা হেল্পলাইন ১০৯৮ সম্পর্কে দেশের অধিকাংশ মানুষ জানে না। এটি সরকারের প্রচারণা ও সচেতনতা কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতাকে সামনে আনে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, সাধারণ মানুষ, শ্রমজীবী পরিবার বা গ্রামীণ জনগোষ্ঠী যদি এই সেবার বিষয়ে অবগত না হয়, তাহলে এর কার্যকারিতা কতটা নিশ্চিত হচ্ছে।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও শিশু নির্যাতনকারীদের তথ্যভিত্তিক নিবন্ধন (চাইল্ড অফেন্ডার রেজিস্ট্রি) চালু করা প্রয়োজন। ডিজিটাল রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হলেও শিশু সুরক্ষার মতো মৌলিক বিষয়গুলো এখনো যথাযথভাবে গুরুত্ব পায়নি।

বিচারপ্রক্রিয়া প্রসঙ্গে ডেপুটি স্পিকার বলেন, শিশু নির্যাতনের মামলাগুলোর দ্রুত তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। নিম্ন আদালত থেকে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। শুধু রায় দেওয়া নয়, তা দ্রুত কার্যকর করাও জরুরি। অন্যথায় বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে নতুন নতুন ভুক্তভোগী তৈরি হবে।

কায়সার কামাল বলেন, আলোচিত পল্লবীর শিশু হত্যার ঘটনার মতো অনেক ঘটনা গণমাধ্যমের মাধ্যমে সামনে এলেও অসংখ্য শিশু নির্যাতনের ঘটনা আড়ালে থেকে যায়। অনেক ভুক্তভোগী ন্যূনতম বিচার বা সহমর্মিতাও পায় না। তাই শিশু সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে রাষ্ট্রকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ডেপুটি স্পিকার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অসংখ্য কর্মসূচি নয়, এমন একটি কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন, যার বাস্তব ফলাফল মানুষ দেখতে পাবে। তিনি বলেন, ‘আমরা বক্তব্য নয়, কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চাই।’

ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, দেশের মানুষ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছ থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বাস্তবসম্মত ও ফলপ্রসূ উদ্যোগ প্রত্যাশা করে। শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত হলে জনগণের আস্থা বাড়বে এবং অপরাধও কমবে।

গোলটেবিল বৈঠক সঞ্চালনা করেন আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম। আলোচনায় আরও অংশ নেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, অধ্যাপক নাহরীন আই খান, ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন, অধ্যাপক ফিরোজা বেগম, ডা. মো. নিজাম উদ্দিন, অধ্যাপক সাইফুন নাহার, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হেলাল হাফিজ, চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বলসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা।

আলোচকেরা বলেন, শিশু নির্যাতন এখন বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এটি একটি জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। বিচারহীনতা, সামাজিক নীরবতা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মাটি ও পরিবেশ উপযোগী বৃক্ষরোপণে গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর

যত আইন, তত ফাঁকফোকর: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

কঠোর অবস্থানে বিজিবি: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ পুশ ইন অপচেষ্টা প্রতিহত

জীববৈচিত্র্য ধ্বংসে বাংলাদেশের ঋণমান কমতে পারে ৬ ধাপ, বাড়তে পারে ঋণের বোঝা: গবেষণা

বিদ্যুৎ খাতে সরকারকে ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

ডেঙ্গু প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বিমানবন্দরে আগুন: তদন্তে কমিটি, সকালেই প্রাথমিক প্রতিবেদন দিতে বলেছেন প্রতিমন্ত্রী

উত্তরের চার সীমান্তে এক দিনে আরও ৬০ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা বিএসএফের

বেটিং ও জুয়া প্রতিরোধ আইনের খসড়া: সন্দেহ হলেই তল্লাশি, গ্রেপ্তার করতে পারবে গোয়েন্দারা