প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যা মামলায় আবারও তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার এই নির্দেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সামরিক কর্মকর্তা শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রিমান্ড শুনানির জন্য আজ তাঁকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এই মামলায় আগেও তাঁকে তিন দফা রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।
আজ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির এসআই কফিল উদ্দিন সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তিন দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় দেলোয়ার হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। অভিযোগ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী ও অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা আন্দোলনকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।
ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত দেলোয়ার হোসেনকে প্রথমে জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউটে ও পরে শ্যামলীর সিটি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল নিহত দেলোয়ারের স্ত্রী মোসাম্মাৎ লিজা আক্তার এ ঘটনায় হত্যা মামলা করেন।
গত ২৫ মার্চ রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করে। মিরপুর থানায় করা দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় পরদিন তাঁর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। গত ৩১ মার্চ আরও ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয় তাঁর। এরপর ৬ এপ্রিল আদালত পল্টন থানায় করা মকবুল হত্যা মামলায় তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে ৯ এপ্রিল পল্টন থানার ওই মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় তাঁকে। এরপর ১২ এপ্রিল মিরপুর থানার দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় আরও এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় মামুন খালেদকে।
১৩ এপ্রিল এক দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হলে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই দিনই গুম, খুনসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা একটি মামলায় শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে তাঁকে দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতিও দেওয়া হয়। পরে তাঁকে কারাগারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর আবার মিরপুর থানার মামলায় তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া হলো। এ নিয়ে তাঁকে ছয় দফা রিমান্ডে দেওয়া হলো।