হোম > জাতীয়

নির্বাচনের আগে অপতথ্যের ‘বন্যা’, ৯০ শতাংশের বেশি আসছে ভারত থেকে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

প্রতীকী ছবি

দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশের ভোটাররা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার নির্বাচন করবেন। তবে বিশ্লেষকদের সতর্কতা, ভোটারদের সিদ্ধান্ত এক সমন্বিত অপতথ্যের ব্যাপক প্রবাহের কারণে প্রভাবিত হওয়ার ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই অপতথ্যের বড় একটি অংশ আসছে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে।

প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি জনসংখ্যার মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশ ২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রথম জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতন ঘটে। তিনি সে বছরের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর থেকে সেখানেই অবস্থান করছেন। ভারতেও জেঁকে বসেছে এক উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি।

বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ বলছে, অনলাইনে অপতথ্য ছড়ানোর মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে—তা নিয়ন্ত্রণে একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করতে হয়েছে। এই অপতথ্যের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি প্রায় নিখুঁত ভুয়া ছবি ও ভিডিও রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত জানুয়ারিতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ফলকার তুর্ককে ফোনকল করে সহায়তা চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচন ঘিরে ভুল তথ্যের এক ধরনের ‘বন্যা’ দেখা যাচ্ছে। ড. ইউনূস বলেন, এই অপতথ্য আসছে বিদেশি গণমাধ্যম ও দেশের ভেতরের কিছু উৎস থেকে।

এই অপতথ্যের বড় একটি অংশ কেন্দ্রীভূত হয়েছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগকে ঘিরে। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশই অমুসলিম। তাঁদের বেশির ভাগই হিন্দু। এর ফলে অনলাইনে ব্যাপক হারে এমন দাবি ছড়ানো হয়েছে যে, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর ‘গণহত্যা’ চলছে। এসব পোস্টে ‘Hindu genocide’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে।

গত জানুয়ারিতে প্রকাশিত বাংলাদেশ পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সংশ্লিষ্ট ৬৪৫টি ঘটনার মধ্যে মাত্র ১২ শতাংশ ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সমন্বিত ভারতীয় অপতথ্য প্রচার

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেইট জানায়, তারা ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ৭ লাখের বেশি পোস্ট শনাক্ত করেছে। এসব পোস্ট শেয়ার করেছে ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি অ্যাকাউন্ট। এসব পোস্টে ‘হিন্দু গণহত্যা’র দাবি করা হয়েছে।

সংস্থাটির প্রধান রাকিব নায়েক বলেন, তাঁরা অনলাইনে সমন্বিত অপতথ্য প্রচার শনাক্ত করেছেন, যেখানে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর ব্যাপক সহিংসতার মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘এসব কনটেন্টের ৯০ শতাংশের বেশি এসেছে ভারতীয় অ্যাকাউন্ট থেকে। বাকি অংশ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় থাকা সংশ্লিষ্ট হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত।’

এএফপি ফ্যাক্ট চেক যেসব দাবি খণ্ডন করেছে, এর মধ্যে কিছু দাবি হাজার হাজারবার শেয়ার করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি এআই দিয়ে তৈরি ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী যার একটি হাত নেই, তিনি দর্শকদের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে ভোট না দিতে অনুরোধ করছেন। যেখানে বিএনপিকে নির্বাচনের অন্যতম শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে। এআই নির্মিত আরেক ভিডিওতে এক হিন্দু নারী অভিযোগ করছেন, তাঁর ধর্মের মানুষদের জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিতে বলা হয়েছে। নইলে তাঁদের ভারত পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এএফপি ফ্যাক্ট চেক দল ইউটিউব, ফেসবুক, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে শত শত এআই-নির্মিত ভিডিও শনাক্ত করেছে। কিন্তু এর মধ্যে খুব কম ভিডিওতেই এআই সম্পর্কিত কোনো সতর্কতা বা ডিসক্লেইমার দেওয়া আছে।

এই অপতথ্যের ঢেউ এসেছে এমন এক সময়, যার আগের দেড় দশক ধরে শেখ হাসিনার শাসনামলে দমন-পীড়ন চলেছে। সে সময় বিরোধীদের দমন করা হয়েছে এবং ভিন্নমতাবলম্বী কণ্ঠগুলোকে নীরব করে দেওয়া হয়েছে।

ঢাকাভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ডিজিটালি রাইট-এর প্রধান সহযোগী অধ্যাপক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন অনেক বেশি অপতথ্য দেখা যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘বিনা মূল্যের এআই টুল ব্যবহারের সুযোগ থাকায় প্রায় নিখুঁত ভুয়া কনটেন্ট তৈরি করা সহজ হয়ে গেছে।’

আরেকটি এআই-নির্মিত ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু বাংলাদেশি শেখ হাসিনার প্রশংসা করছেন। যেখানে তিনি বর্তমানে পলাতক এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে তাঁর অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) জায়গা পাওয়া একমাত্র বাংলাদেশি ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে হিন্দু মৌলবাদীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে মোস্তাফিজের সঙ্গে তাঁর ফ্র্যাঞ্চাইজি চুক্তি বাতিল করে। এই উত্তেজনা বাড়তে বাড়তে বাংলাদেশ জাতীয় দল চলতি মাসে ভারতে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয়।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, অপতথ্যের বড় অংশ ভারত-সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট থেকে এলেও এমন কোনো প্রমাণ নেই যে, এই বিপুল অনলাইন প্রচারে ভারত সরকারের সরাসরি কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা বাংলাদেশে ‘চরমপন্থীদের হাতে সংখ্যালঘুদের ওপর বারবার হামলার একটি উদ্বেগজনক ধারা’ লক্ষ্য করছে। একই সঙ্গে তারা জোর দিয়ে বলেছে, ভারত সবসময় ‘অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনে’র পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

বড় হুমকি

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র মো. রুহুল আমিন মালিক বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ফেসবুকের মূল কোম্পানি মেটার সঙ্গে কাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারির জন্য একটি আলাদা ইউনিটও গঠন করা হয়েছে। তবে অনলাইনে কনটেন্টের বিপুল প্রবাহ সামলানো দুরূহ কাজ।’ তিনি বলেন, তাঁদের টিম কোনো কনটেন্ট ক্ষতিকর বা বিভ্রান্তিকর মনে করলে সঙ্গে সঙ্গে সেটিকে অপতথ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তা জেসমিন টুলী বলেন, এআই দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিও বানিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া বাংলাদেশের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করেছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শহরের ৮০ শতাংশের বেশি পরিবারের কাছে অন্তত একটি স্মার্টফোন রয়েছে। গ্রামাঞ্চলেও এই হার প্রায় ৭০ শতাংশ। তবে অনেক মানুষের কাছে এই প্রযুক্তি এখনো নতুন। জেসমিন টুলী বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো দেশে এটি একটি বড় হুমকি। কারণ মানুষ তথ্য যাচাই করার বিষয়ে খুব একটা সচেতন নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া দৃশ্য ও ভিডিওর কারণে ভোটাররা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত হচ্ছেন।’

দুদকের সাবেক দুই কমিশনারসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত

যুক্তরাজ্যে যাত্রার ৪৮ ঘণ্টা আগে সর্বশেষ পাসপোর্ট তথ্য হালনাগাদ করতে হবে: বিমান বাংলাদেশ

ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের মোবাইল নিতে বাধা নেই: ইসি সানাউল্লাহ

৬ জনকে হত্যা করার কথা জানান র‍্যাব-ফেরত এক সেনা কর্মকর্তা: জবানবন্দিতে সাবেক সেনাপ্রধান

দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে এবার নাহিদের প্রার্থিতা স্থগিত চেয়ে রিট

বিএডিসির চেয়ারম্যান হিসেবে মো. আজিজুল ইসলামের যোগদান

যানজটের কারণে প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে সময়মতো অফিসারদের পাঠাতে পারিনি: ডিএমপি কমিশনার

বিচারপতি নাইমা হায়দারের পদত্যাগ

টি-শার্ট পরে লাঠি হাতে তেড়ে যাওয়ার ভিডিও নিয়ে যা বললেন ডিএমপি কমিশনার

ঢাকা মহানগরের ৩৭টি কেন্দ্রে সাতজন করে পুলিশ সদস্য থাকবেন: ডিএমপি কমিশনার