জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে তামাকজাত দ্রব্যের ওপর কার্যকর কর আরোপ এবং মূল্যবৃদ্ধির দাবিতে অর্থমন্ত্রীর কাছে ছয় সংসদ সদস্য (এমপি) ডিও লেটার দিয়েছেন। উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণা প্রতিষ্ঠান উবিনীগের সহযোগিতায় তামাকবিরোধী নারী জোটের সদস্যরা চিঠিগুলো সংগ্রহ করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে ডিও লেটারগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়।
আজ বুধবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে উবিনীগ।
ডিও লেটার দেওয়া সংসদ সদস্যরা হলেন নরসিংদী-৩ আসনের মনজুর এলাহী, টাঙ্গাইল-৬ আসনের মো. রবিউল আউয়াল, খুলনা-৫ আসনের মোহাম্মদ আলী আসগার, খুলনা-৬ আসনের মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, কুষ্টিয়া-৩ আসনের মো. আমির হামজা ও সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩০৩-এর সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা।
ডিও লেটারে সংসদ সদস্যরা উল্লেখ করেন, দেশে তামাকের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, যা হৃদ্রোগ, ক্যানসার, স্ট্রোকসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বর্তমান মূল্যকাঠামো তুলনামূলক কম হওয়ায় তামাকপণ্য তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। এ কারণে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকপণ্যের কর ও মূল্যকাঠামোর সংস্কার জরুরি বলে তাঁরা মত দেন।
চিঠিতে সিগারেটের ক্ষেত্রে নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটের মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। পাশাপাশি উচ্চ স্তরের সিগারেটের মূল্য ১৪০ টাকা ও প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের মূল্য ২০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়। ডিও লেটারে প্রতি ১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটে চার টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকার বিড়ির খুচরা মূল্য ৩০ টাকা, প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার খুচরা মূল্য ৬০ টাকা ও প্রতি ১০ গ্রাম গুলের খুচরা মূল্য ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হলে তামাকপণ্যের ব্যবহার কমাতে তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সংসদ সদস্যরা তাঁদের চিঠিতে উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত কর ও মূল্য সংস্কার বাস্তবায়িত হলে শুধু সিগারেট খাত থেকেই প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রায় পাঁচ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হবেন এবং প্রায় ৩ লাখ ৭২ হাজার তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে নিরুৎসাহিত হবেন।
সংসদ সদস্যদের মতে, প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন হলে একদিকে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা জোরদার হবে। ফলে এটি সরকার ও জনগণ—উভয়ের জন্য লাভজনক হবে।