মানসিক শান্তির অন্যতম উপায় হয়ে উঠেছে ভ্রমণ। কিন্তু সাধ থাকলেও অনেক সময় সাধ্যের কারণে ভ্রমণপিয়াসি মানুষদের ঘরেই বন্দী থাকতে হয়। অনেকে ভাবেন, লটারি না জিতলে দুনিয়া ঘুরে দেখা সম্ভব নয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ভ্রমণের জন্য লটারির টিকিটের চেয়ে বেশি প্রয়োজন সঠিক কৌশল। কম খরচে বিশ্বভ্রমণের সেরা উপায়গুলো জানা থাকলে ভ্রমণ হবে সহজ আর চাপমুক্ত।
ভ্রমণের খরচ মূলত তিন ভাগ করা যায়—যাতায়াত, খাবার এবং থাকা। এই তিন ক্ষেত্রে খরচ প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব। এ জন্য আপনাকে শুধু একটু কৌশলী হতে হবে। মনে রাখতে হবে, টাকা বাঁচানো জরুরি, কিন্তু তা যেন আপনার ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে মাটি না করে। কিছু অভিজ্ঞতা অর্থমূল্যের চেয়ে অনেক বড়। নিজের বাজেট ঠিক রেখে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ঘুরে বেড়ান। কারণ, জীবনের যেকোনো সময় টাকা আয় করা গেলেও সময় আর ফিরে আসবে না।
বিশ্বব্যাপী একাকী ভ্রমণ এবং কম খরচের ভ্রমণের ধারণা বদলে দিয়েছে বেশ কিছু জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ। সম্ভবত সেসবের মাঝে প্রথম পাঁচেই থাকবে কাউচসার্ফিং। এটি এমন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে স্থানীয়রা পর্যটকদের বিনা মূল্যে নিজেদের বাড়ির সোফা কিংবা বাড়তি ঘর শেয়ার করেন। এই ওয়েবসাইটে একটি অ্যাকাউন্ট এবং এর যথাযথ ব্যবহার আপনার ভ্রমণের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত খরচ কমিয়ে আনতে পারে। তবে বুকিংয়ের আগে অবশ্যই হোস্টের রিভিউ ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি। ওয়ানডে ট্যুর বাদ দিয়ে যদি দীর্ঘ মেয়াদে থাকতে চান, তাহলে বিভিন্ন হোস্টেল, এনজিও, অর্গানিক ফার্ম কিংবা মনাস্ট্রিতে ভলান্টিয়ার বা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে পারেন। বিনিময়ে তারা আপনাকে বিনা মূল্যে থাকা-খাওয়ার সুবিধা দেবে। অনেকের ধারণা, হোস্টেল মানেই গাদাগাদি করে থাকা। কিন্তু বর্তমানে অনেক বুটিক হোস্টেলে কম খরচে দারুণ প্রাইভেট রুম পাওয়া যায়। যেখানে রান্নার সুবিধাও থাকে। এ ছাড়া স্থানীয় সংস্কৃতির স্বাদ নিতে হোমস্টে চমৎকার অপশন। আপনি যদি অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় হন, তাহলে নিজের তাঁবু সঙ্গে রাখুন। ক্যাম্পিং করার মাধ্যমে বিনা মূল্যে মিলিয়ন স্টার হোটেলে ঘুমানোর অভিজ্ঞতা পাবেন। তবে সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।
ইউরোপ বা আমেরিকার রেস্তোরাঁগুলো দুপুরে ‘মেনু অব দ্য ডে বা লাঞ্চ স্পেশাল অফার করে। রাতের মেনুর একই মানের খাবার দুপুরে অর্ধেক অথবা এক-তৃতীয়াংশ মূল্যে পাওয়া যায়। তবে যদি মনে করেন, তিন বেলা রেস্তোরাঁয় খাওয়া মানেই হলো বাজেটের বারোটা বাজা, তাহলে স্থানীয় মুদিদোকান বা সুপারশপ থেকে পাউরুটি, চিজ, ফল ও দই কিনে পার্কের বেঞ্চে বসে পিকনিকের মতো করে সেরে নিন। হোস্টেলের কিচেনে নিজে নুডলস বা হালকা কিছু রান্না করে নিলে খরচ অনেক কমে যায়।
বিশ্বের অনেক নামী জাদুঘর বা দর্শনীয় স্থান সপ্তাহের নির্দিষ্ট একটি দিনে বিনা মূল্যে প্রবেশের সুযোগ দেয়। সেসব দেখতে যাওয়ার আগে ইন্টারনেটে একটু খোঁজ নিলেই বড় অঙ্কের টাকা বাঁচানো সম্ভব। যেকোনো বড় শহরে গাইডসহ বাসে ঘোরার পেছনে ৫০ বা ১০০ ডলার খরচ না করে ফ্রি ওয়াকিং ট্যুরে অংশ নিন। এতে খুব অল্প ব্যয়ে স্থানীয় গাইডদের চমৎকার সেবা পাওয়া যায়। আপনি যদি ছবি তুলতে পারেন, ওয়েবসাইট ডিজাইন করতে পারেন বা সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বোঝেন, তাহলে স্থানীয় কোনো হোস্টেল বা ক্যাফে মালিকের সঙ্গে কথা বলুন। তাঁদের কাজের বিনিময়ে আপনার থাকার খরচ অনায়াসে মিলে যেতে পারে।
সূত্র: মিডিয়াম, শোবিজ ডেইলি